
Taslima Nasrin News: ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের বিতর্কিক লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। এবার বঙ্গে পালা বদল হতেই প্রায় ২০ বছর পর নিজের পছন্দের শহর কলকাতায় ফিরছেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ২০০৭ সালে তাঁর লেখার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে কলকাতার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায়। সেই সময় ক্ষমতায় ছিলো বামফ্রন্ট সরকার। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে রাস্তায় সেনা নামাতে হয়। বিক্ষোভের জেরে এই শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এবার আগামী ১ অগাস্ট শনিবার কলকাতার রবীন্দ্রসদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
জানা গিয়েছে, 'সেকুলার মিশন' এবং 'ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি মৌলবাদ-বিরোধী সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তসলিমা। উল্লেখ্য, বিতর্কিত লেখার কারণে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়ার পর তসলিমা ভারতে আশ্রয় নেন। কিন্তু ২০০৭ সালে কলকাতাতেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলে তিনি এই শহর ছেড়ে চলে যান।
তসলিমা নাসরিন আদতে বাংলাদেশের একজন লেখিকা এবং মানবাধিকার কর্মী। নিজের লেখার জন্য বিশ্বজুড়ে যেমন পরিচিতি পেয়েছেন, তেমনই বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন। নারী অধিকার, ধর্মীয় মৌলবাদ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর নির্ভীক লেখালেখি অনেক মৌলবাদীর চক্ষুশূল হয়। এর জেরেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিজের দেশ ছাড়তে হয়।
১৯৯৩ সালে তাঁর লেখা 'লজ্জা' উপন্যাস প্রকাশের পর এক বিশাল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই উপন্যাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হওয়া অত্যাচার ও সহিংসতার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। উপন্যাসটি প্রকাশের পর বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠনগুলো তসলিমার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয় এবং লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি আসতে থাকে।
কেন বাংলাদেশ ছাড়লেন?
ধর্মীয় সংগঠনগুলোর লাগাতার হুমকি এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর তিনি সুইডেন-সহ ইউরোপের একাধিক দেশে বসবাস করেন এবং পরে ভারতে চলে আসেন।
ভারতে কেন এলেন তসলিমা?
ভারতের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তসলিমার এক গভীর যোগসূত্র ছিল। এই টানেই তিনি ভারতে, বিশেষ করে কলকাতায় থাকতে চেয়েছিলেন। ভারত সরকারও তাঁকে দেশে থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু ২০০৭ সালে কলকাতায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্র হওয়ায় তাঁকে দিল্লি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি দিল্লিতেই থাকেন। শোনা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে শুভেন্দু সরকারের আমলে হিংসার ঘটনা কমে যাওয়ায় এবং সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি হওয়ায় তিনি আবার কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।