
শনিবার কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকা তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) কর্মীদের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক পাথর ছোড়াছুড়ি হয়। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর বাড়িতেও পাথর ছোড়ে।
এই সংঘর্ষে দুই দলেরই বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। অনেকেরই হাত, পা ও মাথায় চোট লেগেছে। শশী পাঁজা বলেন, "আমাকে ইট দিয়ে মারা হয়। বিজেপি গুন্ডা নয়, ওরা খুনি। আপনারা ওদের বিজেপি কর্মী বলছেন, কিন্তু ওরা আসলে খুনি। ওরা 'বিজেপিকে বয়কট করুন' ব্যানারটা দেখেই ছিঁড়ে ফেলে, তৃণমূল সমর্থকদের মারধর করে আর পাথর ছুড়তে শুরু করে।" মন্ত্রী আরও জানান যে এই সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন।
শশী পাঁজা বলেন, "আমাদের ৫০ জনেরও বেশি কর্মী আহত হয়েছেন। একটা বড় পাথর আমার দিকে ছুড়ে মারা হয়েছিল, তাই আমাকে ভেতরে ঠেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপির লোকেরা গুন্ডা। এরা খুনি। এমনকি পুলিশকর্মীরাও আহত হয়েছেন। কলকাতায় আজ যেভাবে গুন্ডামি চলল, তা আগে কখনও দেখিনি। বাংলায় এমন অরাজকতা হয় না। এরা খুনি।"এই সংঘর্ষ এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন পশ্চিমবঙ্গ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে চাইবে, অন্যদিকে গত নির্বাচনে ৭৭টি আসন পাওয়া বিজেপি ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপাবে।
ব্রিগেড থেকে শুভেন্দুর বার্তা
এর আগে, বিজেপির বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে হারানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী এবং সনাতনীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে, যা তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ধাক্কার ইঙ্গিত। রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুভেন্দু বলেন, "আমাদের তৃণমূলকে হারাতেই হবে... পরশু ব্রিগেড সমাবেশ হবে, আর সেখানে সব রেকর্ড ভেঙে মানুষ আসবেন। আপনারা সেখানে জাতীয়তাবাদী আর সনাতনীদের গর্জন শুনতে পাবেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলকে উপড়ে ফেলা হবে।"