তাপস রায় , সজল ঘোষদের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেও সোশ্যাল মিডিয়া রীতমত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মবিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
তাপস রায় , সজল ঘোষদের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেও সোশ্যাল মিডিয়া রীতমত ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মবিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল ঘোষ লিখেছেন, 'বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ। ধন্যবাদ মাননীয়া দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধন্যবাদ বেলেঘাটা কেন্দ্রের নাগরিকদের। শপথ পাঠ করালেন মাননীয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা। তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাপসদাকে ভালো বলায় আমাকে দল সাসপেন্ড করেছিল। ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র। সজল পুরপিতাও বটে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক । আমি তৃণমূলের সৈনিকই আছি। লড়াই চলবে। তবে যার বা যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের। এভাবে চললে কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার লড়াইতে আত্মবিশ্লেষণটাও জরুরি। আমরা তৃণমূলের সৈনিকরা দলনেত্রীর নির্দেশে লড়ছি। জয় বাংলা।
পুনশ্চ: কেস দেবেন না প্লিজ। '
নিজের শপথ গ্রহণের একাধিক ছবিও শেয়ার করেছেন। সেখানে তাপস রায়ের ছবিও রয়েছে।
দলবদল
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই তাপস রায় আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। তিনি বরাহনগরের বিধায়ক ছিলেন। তাপস রায়ে দলবদলের আগে কুণাল নিজে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাপস রায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। কিন্তু তাপস রায়ের দলবদল আটকাতে পারেননি। সেই সময় দলের একাংশের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন কুণাল। তারজন্য শাস্তিও দিয়েছিল দল। তারও উল্লেখ রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে।
সজল ঘোষ আরও আগেই তৃণমূল ছেড়েছিলেন। তাঁর পুজো নিয়েও প্রশাসনের সঙ্গে বিবাদ বেধেছিল।
নিশানায় সুদীপ?
তবে কুণাল তার পোস্টে দলের কারও নাম না উল্লেখ করলেও কুণাল কার দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা স্পষ্ট। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ‘মধুর’ সম্পর্কের কথা সকলেই জানেন। এর আগে একাধিক বার দলের অন্দরের এই কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছিল। কুণালের অভিযোগ ছিল, তাপসের দলত্যাগের অন্যতম কারণ উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ। এর আগেও সুদীপ ও নয়নার বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন কুণাল। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের থেকেই তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে। কুণালের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তারই প্রতিফল।

