
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক ডামাডোল এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবরের মধ্যেই দলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় শুক্রবার বিক্ষুব্ধ নেতাদের দলবদলের প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এ যোগ দেওয়ার ইচ্ছাকে তিনি 'অনৈতিক' বলে দাগিয়ে দিয়েছেন।
এখানে ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌগতবাবু দলের সদস্যদের আনুগত্য বদল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের ভবিষ্যৎ যখন টালমাটাল, সেই পরিস্থিতিতে তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সৌগত রায় বলেন, "আমার মতে, এত তাড়াতাড়ি দলবদল করা বা এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার কথা বলাটা অনৈতিক।"
দলের অন্দরে তৈরি হওয়া সংঘাত নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন সৌগত।
দলের এই খারাপ অবস্থার জন্য পুরো দায় কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই প্রশ্নের উত্তরে সৌগতবাবু তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, "আমি এটা সত্যি বলে মনে করি না। তবে আমি স্বীকার করছি যে দল খারাপ অবস্থায় আছে। কিন্তু সবকিছুর জন্য অভিষেককে দোষ দেওয়াটা ঠিক নয়।" তিনি আরও বলেন, দলের অন্দরে এই বিদ্রোহ আসলে "সুবিধাবাদী" পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, "যারা আজ এসব কথা বলছে, তারাই তো ৪ মের আগে অভিষেকের নামে জয়ধ্বনি দিত। তখন তো এসব অভিযোগ করেনি। আমার মতে, এই ভোলবদলটা পুরোপুরি সুবিধাবাদী একটা চাল।"
২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের দল ছাড়ার জল্পনার মধ্যেই সৌগত রায় জোর দিয়ে বলেন যে তিনি দলের ঐক্য বজায় রাখতে সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দলীয় নেত্রী সায়নী ঘোষের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি চার-পাঁচ দিন আগে সায়নীর সঙ্গে কথা বলেছি। ও তো বলেছে যে দল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবে।"
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেস একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দলের উপর চাপ বাড়ছে এবং বেশ কিছু নেতা দল ছাড়ছেন।