
I-PAC সল্টলেকের অফিসে ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়ি বৃহস্পতিবার তল্লাশি চালায় ইডি বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। তল্লাশি চলার সময় সেখানে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি সেখান থেকে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ ও ফোন বের করে নিয়ে আসেন। সেই ছবি দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি আইপ্য়াকের অফিস থেকেই কয়েকটি ফাইল বের করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সূত্রগুলো দাবি করেছে যে, তিনি নিজেই প্রতীক জৈনের ফোন কেড়ে নেন এবং পুলিশ আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান ব্যাহত করেন। মমতা কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর দলীয় নথি চুরির অভিযোগ তোলেন।
ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী সূত্র জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নিজেই আই-প্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার (Rajeev Kumar) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ইডি আধিকারিকদের পঞ্চনামায় কিছু রেকর্ড না করার নির্দেশ দেন। অভিযোগ, ডিজিপি তিনজন ইডি আধিকারিককে বলেন যে, অভিযানে কোনও কিছু উদ্ধার হয়েছে বলে দেখানো যাবে না, অন্যথায় তাঁদের গ্রেফতার করা হবে। ইডি সূত্র আরও দাবি করেছে যে, পরিস্থিতি একটি বিশাল শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়েছিল, যেখানে তিনজন ইডি আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রী জন্য মোতায়েন করা কয়েক ডজন পুলিশকর্মী এবং জেড-ক্যাটাগরির নিরাপত্তা আধিকারিকদের মুখোমুখি হন। ইডি আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়েছিল এবং চাপ দেওয়া হয়েছিল যাতে ঘটনার কোনও বিবরণ সরকারি প্রতিবেদনে প্রতিফলিত না হয়। সূত্র মতে, ডিজিপি ইডি দলকে এও হুমকি দেন যে, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে এবং তাদের গ্রেফতার করা হবে।
ইডি আরও দাবি করেছে যে, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাধীন সাক্ষীদের কলকাতা পুলিশের কর্মী এবং মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদস্যরা হয়রানি করেছে ও ভয় দেখিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দাবি করেছে যে, তাদের আধিকারিকরা পুরো তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জবরদস্তি ও ভীতি প্রদর্শনের শিকার হয়েছেন এবং চাপের মুখে সরকারি নথি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।