
সই-জালকাণ্ডে এবার সিআইডি-র স্ক্যানারে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শনিবার বিধায়কের ভবানীপুরের বাাড়়িতে যায় তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। বর্তমানে রাজ্যের সবথেকে আলোচ্য বিষয় সই জালিয়াতি কাণ্ড। যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসও দুইভাগে বিভক্ত। এই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তকারীদের এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদ করে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় ৯ মে স্পিকারকে জানান যে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) পরিষদীয় দলের বৈঠকে পদাধিকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর ১৮ মে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ সচিব অভিষেককে চিঠি দিয়ে সেই বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং উপস্থিত বিধায়কদের সই-সহ প্রস্তাব জমা দিতে বলেন। ২০ মে, অভিষেক মিটিং রেজোলিউশন বইয়ের একটি কপি জমা দেন, যেখানে বলা হয় ৬ মে-র বৈঠকে ৭০ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল এই বৈঠকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের নাম প্রস্তাব করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সূত্রের খবর, সকলেই সেই প্রস্তাবে সায় দেন।
কিন্তু ২৭ মে, দুজন তৃণমূল বিধায়ক স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন যে ৬ মে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে কোনও প্রস্তাবই পাশ হয়নি এবং তাঁরা ১৯ মে তারিখে রেজোলিউশন বইতে সই করেছিলেন। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ৬ মে তারিখের প্রস্তাবটি ছিল "বানানো এবং জালিয়াতি করা", যেখানে প্রায় ১৪টি সই ব্লক লেটারে করা ছিল। তারা প্রস্তাবে সই করেননি বলেও দাবি করেছিলেন ঋতব্রত ও সন্দীপনরা। পাশাপাশি তাদের সই জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে দলবিরোধী কাজের জন্য এই দুই বিধায়ক - ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল। যদিও ঋতব্রতদের দাবি তাদের পক্ষেই রয়েছে ৬৫ জন বিধায়ক। আর সেই কারণে তারাই আসল তৃণমূল।
শনিবার শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের ভবানীপুরের বাড়িতে পৌঁছায় সিআইডির ৬ সদস্য়ের একটি দল। তারা আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করে। সূত্রের খবর, শোভনদেবের কাছে তাঁরা জানতে চান সই-জাল কাণ্ডের দিন ঠিক কী কী হয়েছিল। আর সেই কারণেই এই জিজ্ঞাসাবাদ।
শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, 'আমি ২০০শতাংশ সহযোগিতা করেছি। আগামী দিনেও করব। আমি সহযোগিতা করছি কি না, তা ওঁরাই (CID) বলবেন।' তিনি আরও বলেন, 'যারা কমপ্লেন করতে গিয়েছেন স্পিকারের কাছে, তারাই এগুলো করে দিয়ে গেছেন। আমরা সবাইকে বিশ্বাস করে ডেকেছিলাম। তারা সই করেই সোজাসুজি স্পিকারের কাছে চলে গিয়েছেন। যারা অভিযোগ করল তাঁরা বলতে পারবে কেন করল। একজন বিধায়ক বাদে সকলে মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সই করেন। নিজেরাই জাল সই করেন। পরে দিয়ে অভিযোগ করবেন'। শোভনদেব চট্টোপাাধ্য়ায় এই বিষয়টাকে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন।