
Calcutta High Court News: কলকাতা হাইকোর্টে নতুন বিচারপতি নিয়োগ। প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি ফেরানো থেকে ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।
কলকাতা হাইকোর্টের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হলেন তপোব্রত চক্রবর্তী। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল শনিবার তথা ২০ জুন অবসর নিচ্ছেন। তাঁর জায়গায় কলকাতা হাইকোর্টের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন বিচারপতি চক্রবর্তী। ২০ জুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। সাধারণত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অবসর নিলে বয়ঃজ্যেষ্ঠ বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতির পদে বসানো হয়। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে ২০ জুন থেকে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, 'ভারতীয় সংবিধানের ২২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করলেন রাষ্ট্রপতি। ২০ জুন বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের অবসর গ্রহণের পর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।'
১৯৯১ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ৬০ বছর বয়সী বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ২২ বছর হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন। ২০১৩ সালে তিনি বিচারপতি হন এবং ২০১৬ সালে তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হলেন তিনি।
কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করেছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ। মানবিক দিক বিবেচনা করে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আগামী আগস্ট মাসে যদিও সেই রাইকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
এছাড়াও রাজ্যে ওবিসি শংসাপত্র মামলাতেও গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি চক্রবর্তী। ২০১০ সালের পর রাজ্যে ইস্যু হবার সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে দিয়েছিলেন তিনি। এই রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি চক্রবর্তীর পর্যবেক্ষণ ছিল তৃণমূল সরকারের আমলে অনগ্রসর শ্রেণীর তালিকাভুক্ত হওয়া ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না। সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করে নতুন করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেও মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
গত বছর বাংলাদেশি সন্দেহে সোনালী বিবি সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি চক্রবর্তী। তাঁর নির্দেশের ভিত্তিতেই অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি সহ সকলকে দেশে ফেরানো হয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।