২১ জুলাই TMC vs TMC: মমতা-ঋতব্রতের আলাদা মঞ্চ, কলকাতায় কার সভায় বেশি ভিড়?

Published : Jul 21, 2026, 08:20 PM IST

Mamata vs Ritabrata: একুশে জুলাই এবার ভাগ হয়ে গেল দু'টি মঞ্চে। বিড়লা তারামণ্ডলে মমতা, মেয়ো রোডে ঋতব্রত। ভিড়ের লড়াইয়ে কে এগিয়ে, কোন মঞ্চে কারা ছিলেন? জানুন বিস্তারিত।

PREV
110
নজিরবিহীন একুশে জুলাই, ভাঙল ১৫ বছরের ঐতিহ্য

গত ১৫ বছর ধরে একুশে জুলাই ছিল তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ত্রিস্তরীয় মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ ও তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি ছিল যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবি সম্পূর্ণ বদলে গেল। ভেঙে টুকরো হওয়া তৃণমূলের দুটি আলাদা শহিদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হল দুই আলাদা স্থানে, যা রাজ্য রাজনীতিতে একেবারেই নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।

210
দুই মঞ্চ, দুই নেতৃত্ব— মমতা বনাম ঋতব্রত

বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের রাস্তায় শহিদ দিবস পালন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শহিদ দিবস পালন করল ধর্মতলার মেয়ো রোডে। মাত্র আড়াই কিলোমিটারের ব্যবধানে দুই ভিন্ন শিবিরের এই সমাবেশ শহরের রাজনৈতিক আবহেই এক অন্যরকম উত্তেজনা তৈরি করেছিল।

310
জেলা থেকে আসা কর্মীরা পড়লেন বিভ্রান্তিতে

প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের আগের দিন থেকেই হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় আসতে শুরু করেন, বিভিন্ন ক্যাম্পে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। এবারও বহু কর্মী এসেছিলেন, কিন্তু দুই মঞ্চ হওয়ায় তাঁরা ভাগ হয়ে যান মেয়ো রোড ও তারামণ্ডলের সামনের রাস্তায়। কেউ কেউ আবার বিভ্রান্ত হয়ে ভুল পথেও চলে যান।

410
শহরের রাস্তায় নেই চেনা উৎসবের আমেজ

প্রতি বছর গোটা শহর মুড়ে ফেলা হত শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারে। কিন্তু এবার শুরু থেকেই সেই চিত্র ছিল একেবারে ম্যাড়মেড়ে। শিয়ালদহ, হাওড়া স্টেশন এবং ফেরিঘাট চত্বর ছিল প্রায় খাঁ-খাঁ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে অন্য পাঁচটা দিনের সঙ্গে কোনো ফারাকই চোখে পড়েনি— দলীয় গেট, ফেস্টুন, পতাকা কিংবা লাউডস্পিকারের আওয়াজ, কিছুই ছিল না চেনা মাত্রায়।

510
ভিড়ের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে মমতাপন্থীরা

মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে দুই মঞ্চে লোক টানার এই লড়াইয়ে স্পষ্টতই এগিয়ে গেলেন মমতাপন্থীরা। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে বাঁধা তাঁদের মঞ্চের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন পুরোপুরি ভরে যায় কালো মাথায়, আগের ১৫ বছরের ধারা মেনেই শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে জোরালো স্লোগান।

610
মেয়ো রোডে সকালে ফাঁকা, বেলা বাড়তে ভরল চেয়ার

অন্যদিকে মেয়ো রোডে সকালের দিকে ঋতব্রত তৃণমূলের সভায় খুব বেশি কর্মী-সমর্থকের দেখা মেলেনি, অধিকাংশ চেয়ারই ছিল ফাঁকা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ভর্তি হতে শুরু করে খালি চেয়ারগুলি। কয়েকজন কর্মী-সমর্থক জানান, প্রতীক একটাই হওয়ায় তাঁরা দুই সভাতেই যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছেন।

710
সভা বানচালের অভিযোগ কালীঘাট শিবিরের

মমতা শিবিরের দাবি, তাঁদের সভা বানচাল করার চেষ্টা করে আদতে আদালতের অবমাননা করছে পুলিশ-প্রশাসন। ২১ জুলাইয়ের সভামঞ্চ ভেঙে দেওয়া, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং মাইকের তার কেটে দেওয়ার মতো অভিযোগও তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। এই অভিযোগের জেরে রাতভর নিজেদের মঞ্চ পাহারা দিতে দেখা যায় মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

810
মমতার মঞ্চে কারা ছিলেন?

মমতাপন্থী তৃণমূলের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাজীব কুমার, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, অশোক দেব ও গৌতম দেবের মতো একাধিক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী। পাশাপাশি উপাসনা-সহ দলের ছাত্র-যুব সংগঠনের সদস্যরাও মঞ্চে হাজির ছিলেন।

910
ঋতব্রতর মঞ্চে কারা ছিলেন?

অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত তৃণমূলের সভামঞ্চে দেখা যায় ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহা, অরূপ চক্রবর্তী, অনুব্রত মণ্ডল, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, দেবাশিস কুমার, মদন মিত্র, কৃষ্ণা চক্রবর্তী ও রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতা-নেত্রীদের। শহিদ পরিবারগুলির মধ্যে রঞ্জিত দাস, মহম্মদ খালেদ, দিলীপ দাস ও রতন মণ্ডলের পরিবারও উপস্থিত ছিল এই মঞ্চে।

1010
দুই শিবির থেকে বড় বড় ঘোষণা ও চ্যালেঞ্জ

দুই মঞ্চ থেকেই এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার জন্য মাত্র ২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন, পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী মদন মিত্রকে অভিষেকের সঙ্গ ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য এক মাস সময় দেন। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দিলে এবং ব্যাঙ্কের টাকা ব্যবহারের অনুমতি পেলে শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তবে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঋতব্রত শিবিরের কাউকেই আর দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories