- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ২২ মিনিটের বক্তৃতা, মমতার সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর সোজা বাড়ির পথে কল্যাণ
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ২২ মিনিটের বক্তৃতা, মমতার সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর সোজা বাড়ির পথে কল্যাণ
২১ জুলাইয়ের (21 July)মঞ্চে সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee), বাদ পড়লেন একাধিক সাংসদ। মমতার (Mamata Banerjee)সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর সোজা বাড়ি ফিরলেন সাংসদ। জানুন বিস্তারিত।

বক্তৃতা শেষ করেই মঞ্চ ছেড়ে সোজা বাড়ি চলে গেলেন কল্যাণ
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই সটান বাড়ির পথ ধরলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করেননি তিনি, যা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা চলে যান কালীঘাটের নিজের বাড়িতে, যা মমতার বাড়ি থেকে মাত্র তিনটে বাড়ি দূরে অবস্থিত।

দীর্ঘ সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা, নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ
কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্রের দাবি, নেত্রী নিজেই সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই নির্দেশ কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট ধরে বক্তৃতা চালিয়ে যান, যার জেরে দীর্ঘ বক্তা-তালিকা সত্ত্বেও একাধিক সাংসদ শেষ পর্যন্ত বক্তৃতার সুযোগই পাননি।
মমতা মঞ্চে ঢোকার পরেও থামেননি কল্যাণ, হস্তক্ষেপ কুণালের
কল্যাণের বক্তৃতার মাঝেই মঞ্চে প্রবেশ করেন মমতা। সেই সময় সামান্য থেমে ফের বক্তৃতা শুরু করেন তিনি। মঞ্চে উপস্থিত সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নেত্রী ইঙ্গিতে বক্তৃতা সংক্ষিপ্ত করতে বলার পরেও থামেননি কল্যাণ, আর তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হন বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
বক্তৃতা শেষে ধমকের সুরে কথা, বাদানুবাদে জড়ালেন নেত্রীর সঙ্গে
বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কল্যাণের সঙ্গে রীতিমতো ধমকের সুরেই কথা বলেন মমতা, আর সেই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাদানুবাদও হয়। এর পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে মঞ্চ থেকে নেমে যান কল্যাণ, যা গোটা ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
বাদ পড়েছেন মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদের মতো একাধিক সাংসদ
কল্যাণের দীর্ঘ বক্তৃতার জেরে তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বক্তৃতা করার সুযোগ পাননি লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন ও সাগরিকা ঘোষ, রাজীব কুমারের মতো একাধিক নেতা-নেত্রী। এর পরে একে একে বক্তৃতা করেন সৌগত রায়, প্রিয়ঙ্কা অধিকারী, উপাসনা চৌধুরী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সব শেষে স্বয়ং মমতা।
তৃণমূলের অন্দরে কল্যাণকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলে ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে, ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো একদা অনুগত নেতা-নেত্রীরাও ধীরে ধীরে দূরে সরে গিয়েছেন বলে মনে করা হয়। এতদিন মমতার ঘনিষ্ঠদের তালিকায় ওপরের দিকেই ছিলেন কল্যাণ, নিয়মিত যেতেন তাঁর বাড়িতেও। কিন্তু এবার খোদ নেত্রীর সঙ্গেই কথা কাটাকাটির ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে— এই টানাপড়েনের কি মিটমাট হবে, না কি অন্য প্রাক্তন ঘনিষ্ঠদের পথেই হাঁটবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

