
প্রতীক ও ফান্ড নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যেই কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস আর ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলছিল দীর্ঘ দিন ধরেই। কিন্তু এবার তা 'নামযুদ্ধ'এ পরিণত হয়েছে। শুরুটা হয়েছে কুণাল ঘোষ আর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মধ্যে দিয়ে। ইতিমধ্যেই দুজনে দুজনকে আক্রমণ করতে শুরু করেছেন।
সম্প্রতি কুণাল ঘোষ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে লিপস্টিক কাকিমা বলে আক্রমণ করেছিলেন। তারই পাল্টা চন্দ্রিমা ঘনিষ্ঠ ঋজু দত্ত বেলাঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে কাঁপুনি কাকু বলে আক্রমণ করেছেন । তার প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখনও দেননি কুণাল ঘোষকে।
সরাসরি দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা আক্রমণ করেছেন কুণাল ঘোষ। এর আগে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে আক্রমণ করেন কুণাল। কুণাল একটা সময় বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতিকে ভ্রাম্যমান বিউটিপার্লার ও পরচুলা বলে আক্রমণ করেছিলেন। তারপরই মমতাকে ছেড়ে যাওয়া চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে লিপস্টিক কাকিমা বলে আক্রমণ করেন।
কুণাল ঘোষের মূলত বক্তব্য ছিল মমতা বন্দ্যোপাদ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা সময়ে আরও অনেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পদ ও সম্মান ও রাজনৈতিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরে তাঁর কঠিন সময়ে অনেকে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন। বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা দলবদলের প্রসঙ্গে তুলে তাঁর দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন এমন নেতাদের কেউ ক্ষমা করবে না।
কুণালের এই মন্তব্যের পরই সরব হন চন্দ্রিমা। সকালে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে লক্ষ্য করে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ ঋতব্রত তৃণমূলের অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেননি। ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানান, দলের বর্ষীয়ান নেত্রীদের নিয়ে এ ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এবার কুণাল ঘোষকে পাল্টা নাম দেওয়া হল 'কাঁপুনি কাকু'। তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত মূলত এই নামকরণ করেছেন। তিনি বলেন, 'কাঁপুনি কাকুর বক্তব্য অনুযায়ী সব ফায়দা তুলেছে গদ্দাররা। তাহলে কুণাল ঘোষ কোনও ফায়দা তোলেনি। রাজ্যসভায় যাননি তিনি? তারপর চুরি করে ধরা পড়েছিলেন, সেই কেস চলছে।'