
WB SSC: কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, এসএসসিতে সাত শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ করতে হবে। পূর্বতন সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ১৭ শতাংশ সংরক্ষণ হবে না। বাকি দশ শতাংশ সংরক্ষণ জেনারেল ক্যাটাগরিতে যোগ হবে। ২০২৫ সালের ১২ অগাস্ট পর্যন্ত পাওয়া ই ডব্লিউ এস শংসাপত্র (economically weaker section) অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশ মেনেই এসএসসির একাদশ ও দ্বাদশের নিয়োগে বড়সড় পরিবর্তন করল কমিশন। পুরনো তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। পুরনো প্যারেন্ট মিলে আর হবে না একাদশ ও দ্বাদশের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ।
তাই নতুন করে ইন্টারভিউ এর তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। হাইকোর্টের নির্দেশের সংশোধিত শূন্য পদ অনুযায়ী তালিকা তৈরি করেছে কমিশন। তাই এর আগে প্রকাশিত ইন্টারভিউ এর তালিকা ওয়েটিং লিস্ট এর তালিকা এবং চূড়ান্ত প্যানেল বাতিল করেছে কমিশন। আগের প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্টের ভিত্তিতে হওয়া কাউন্সিলিংও বাতিল করল কমিশন।
কাউন্সেলিং এর পর যে সমস্ত পরীক্ষার্থীদের সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল সেটাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নতুন তালিকায় থাকা যে পরীক্ষার্থীরা ইন্টারভিউ এবং ক্লাস নেওয়ার পরীক্ষা দিয়েছেন তাঁদের নতুন করে আর পরীক্ষা দিতে হবে না। তাদের লিখিত পরীক্ষার নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতা ইন্টারভিউ এবং ক্লাস নেওয়ার নম্বর ধরেই নতুন মেধা তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এর আগে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা অব্যাহত ছিলো। গত এক দশকে এসএসসি-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিল হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে গত বছরের এপ্রিলে ২০১৬ সালে আয়োজিত এসএসসি-র পুরো প্যানেলই বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি খোয়ান। তবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং পরে চলতি বছরের ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত যোগ্য শিক্ষকদের সবেতন কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সময়সীমার মধ্যে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু ওবিসি সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে ফের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এরপরই শীর্ষ আদালতের কাছে বাড়তি সময় চাই এসএসসি।
এসএসসি ৩১ অগাস্টের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের একাংশকে চাকরি খোয়াতে হত। তবে এসএসসি বাড়তি সময় পেলে আপাতত তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট কতদিন পর্যন্ত সময় দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চলতি বছরে না আগামী বছরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।