
বিজেপিতে নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা যোগ দিতে পারেন নতুন দলে। দলের বিদ্রোহী সাংসদরা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরবর্তীতে কেন্দ্রে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সকে (এনডিএ) সমর্থন জানাতে পারেন বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, এই পদক্ষেপটি একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। সেই দলটির নাম ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি’ (Nationalist Citizens Party) এবং এর মূল রাজনৈতিক কার্যক্রম পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার উপর কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের লক্ষ্য: দল-সংযুক্তি ও এনডিএ-র সমর্থন
যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে সূত্র জানিয়েছে যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণের সময় এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে যাওয়ার আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একত্রিত হয়েছিলন। তার পরেই এই নতুন পরিস্থিতির কথা সামনে এল।
লোকসভা স্পিকারের বাসভবনে যাওয়ার আগে যাদবের সঙ্গে বিদ্রোহীদের বৈঠক
ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, বাপি হালদার এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবের বাসভবনে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে চিঠি জমা দিয়েছিল। শুক্রবার ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি প্রকাশ্যে আসে, যা দলের লোকসভা সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের বিভাজনের জল্পনাকে আরও উস্কে দেয়।
রবিবার কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন যে আরও দুজন সাংসদ বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে চলেছেন, যার ফলে লোকসভায় তাঁদের সংখ্যা বেড়ে ২২-এ দাঁড়াবে এবং সংকট আরও ঘনীভূত হবে।
অভিষেকের চিঠি
এদিকে, রবিবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন পাতার ওই চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল একটিই।” তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে যাতে স্বীকৃতি না-দেওয়া হয়, স্পিকারের কাছে সেই আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর চিঠি স্পিকারের কাছে পৌঁছে দেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.