TMC Rift: তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্যে। সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিদ্রোহী সাংসদরা। অন্যদিকে, দলত্যাগ বিরোধী আইন মনে করিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে দল।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল আরও চওড়া হল। রবিবার দলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ সোজা পৌঁছে গেলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দিল্লির বাড়িতে। তাঁদের দাবি, সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এই দলে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়ের মতো নেতারা। দলের অন্দরের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এই ঘটনা আগুনে ঘি ঢালল।

তৃণমূলের ভাঙনের ইতিকথা
এর আগে দিনের বেলায় কয়েকজন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেও যান। নয়াদিল্লিতে সায়নী ঘোষ, মালা রায়, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী এবং কাকলি ঘোষরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন।
একই সময়ে কলকাতাতেও তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। তৃণমূল নেতা গৌতম দেব এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।
ঋজু দত্তর কথা
এদিকে, দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতা ঋজু দত্তের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা বেড়ে ২২ পর্যন্ত হতে পারে। তিনি বলেন, "বিদ্রোহী সাংসদরা আজ দিল্লি যাচ্ছেন। সকালে কাকলি ঘোষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আরও দুজন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন, তাতে সংখ্যাটা ২০ থেকে বেড়ে ২২ হবে। সোমবার সব বিদ্রোহী সাংসদ স্পিকারের সঙ্গে দেখা করবেন। বিধানসভাতেও তাঁরা আলাদা বিরোধী দলনেতা রাখার প্রস্তাব দিতে পারেন। আমি কয়েকজনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি, তাঁরা জানিয়েছেন যে এনডিএ-কে সমর্থন করবেন।"
সাগরিকা ঘোষের নিশানায় বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা
তবে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এই বিদ্রোহীদের একহাত নিয়েছেন। তিনি এক্স-এ (আগের টুইটার) একটি পোস্টে লিখেছেন, দলত্যাগ বিরোধী আইনে কোনও "আলাদা গোষ্ঠী" হিসেবে কাজ করার সুযোগ নেই, বিশেষ করে যখন তাঁরা দলের প্রতীকে জেতা আসন ধরে রেখেছেন।
সাগরিকা আরও বলেন, একজন সাংসদ বা বিধায়ক একমাত্র তখনই পদচ্যুতি এড়াতে পারেন, যখন তাঁর মূল দল অন্য দলের সঙ্গে মিশে যায়, এবং সেটাও কিছু নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে।
তিনি লেখেন, "কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর আসন হারাবেন বা বরখাস্ত হবেন, যদি না তাঁর মূল রাজনৈতিক দল অন্য দলের সঙ্গে মিশে যায়... সংসদের ভেতরে বা বিধানসভার ভেতরে একই প্রতীকে জেতা আসনে বসে 'আলাদা গোষ্ঠী' তৈরির কোনও আইনি সংস্থান নেই। আইনটা খুব স্পষ্ট। নতুন দলের সঙ্গে মিশে যান, নয়তো পদচ্যুত হন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "নইলে হাউস-এ—সে সংসদ হোক বা বিধানসভা—আপনার সদস্যপদ অবৈধ হয়ে যাবে।"
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক সংকট চলছে। পশ্চিমবঙ্গে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক এবং লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। এর মধ্যেই রাজ্যসভার তিন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ বরাইক—তাঁদের পদ ও দলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।


