
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ডিলিমিটেশন করে বাংলা ভাগ করা হবে' দাবিকে সরাসরি 'মিথ্যে' বলে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে আলোচনা করার মতো আর কোনও বিষয় নেই মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু সাংবাদিকদের বলেন, "এটা একটা মিথ্যে কথা... ওঁর হাতে আর কোনও ইস্যু নেই। পশ্চিমবঙ্গে মহিলারা সুরক্ষিত নন, বেকারত্ব চরমে, আর উনি তোষণের রাজনীতি করছেন। মানুষ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য মনস্থির করে ফেলেছে।"
রবিবার কেশিয়াড়ির এক নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ভোটের মাঝেই সংসদে-এর বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে এবং সরকার কোনও আলোচনা ছাড়াই ডিলিমিটেশন বিল আনতে চলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া, অর্থাৎ ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে কেন্দ্র 'বাংলাকে ভাগ' করতে চায়। তিনি বলেন, "ভোট চলছে, আর তার মধ্যেই ওরা সংসদে ডিলিমিটেশন বিল আনছে। এটা নিয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। এর কারণ হল, ওরা বাংলা ভাগ করতে চায় আর এখানে NRC করতে চায়। আমাদের লড়াই 'ভ্যানিশ কুমার'-এর (নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে) সঙ্গে। আমি আবার বলছি, বিজেপি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে।"
প্রসঙ্গত, ১৬ এপ্রিল থেকে তিন দিনের জন্য সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন বসতে চলেছে। সেখানে 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩'-এর সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। নারী শক্তি বন্দন আইনে মহিলা সংরক্ষণকে নতুন জনগণনা এবং ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণনার কাজ দেরিতে হওয়ায়, সরকার ২০১১ সালের সেন্সাস ডেটার ভিত্তিতেই এগোনোর পরিকল্পনা করছে।
এই সংশোধনীর পর লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬ হতে পারে। সরকার দুটি বড় সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে একটি হল পৃথক ডিলিমিটেশন বিল। মহিলা সংরক্ষণের জন্য দুটি বিলই সাংবিধানিক সংশোধনী হিসেবে পাস করাতে হবে। আগের মতোই, এই ব্যবস্থায় ওবিসি সংরক্ষণের কোনও সংস্থান নেই, তবে এসসি/এসটি সংরক্ষণ চালু থাকবে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.