
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ নতুন মোড় নিয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিতে যাওয়ার পথে তাঁদের ট্রাকে হামলা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি বিষয়টি জানান। এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি।
সূত্র অনুযায়ী, সোমবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ ট্রাকটির উপর হামলা হয়। ভোর ৪টে নাগাদ ঋতব্রত সমাজমাধ্যমে লেখেন, আধঘণ্টা আগে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেছেন, ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানা সীমান্তের কাছে। অর্থাৎ ট্রাকটি দিল্লির দিকেই যাচ্ছিল, গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই এই ঘটনার অভিযোগ।
ঋতব্রত লিখেছেন, ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় তাঁর কর্মীরা বাধা দিয়েছেন এবং লড়াই চলছে। তাঁর ভাষায়, এটি ‘চার্টার্ড সংস্কৃতি’ এবং তৃণমূল স্তরের সংকল্পের লড়াই। স্বৈরাচারীরা সংগঠিত লুটপাটের চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এই অপচেষ্টা সফল হবে না। এই ভাষাতেই বোঝা যায়, ঘটনাটিকে তিনি দুই শিবিরের আর্থিক ও সাংগঠনিক শক্তির লড়াই হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।
Chartered Flight has carried Kalighat’s affidavits to Delhi on 25 th evening. Our Affidavits are being transported to Delhi by road. Our workers have started with our documents on 24 th morning for depositing in ECI. Half an hour ago there were attempts to take control of the truck and snatch our documents. Our workers have resisted bravely. The fight is on. A fight between Chartered Culture versus Grass Root resolve. Despots will not succeed in their attempt of organised loot in every sphere. @ECISVEEP @DelhiPolice @dtptraffic @police_haryana
— Ritabrata Banerjee (@RitabrataBanerj) October 25, 2026
ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবিরের হলফনামা ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে তাঁদের হলফনামা সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর শিবিরের আর্থিক সঙ্গতি নেই বলেই এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। তাঁদের কর্মীরা শনিবার সকালেই নথি নিয়ে কমিশনে জমা দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন। এই তুলনার মধ্য দিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেছেন।
ঋতব্রত শিবিরের মনে করছে, গোটা ঘটনার পিছনে মমতাপন্থী কালীঘাট শিবিরের হাত রয়েছে। বিধায়ক আখরুজ্জামানের সন্দেহ, কালীঘাট তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতেই এই কাজ করা হয়েছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, তা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ সূত্রে নেই। এখনও পর্যন্ত এটি শিবিরের সন্দেহ এবং অভিযোগের স্তরেই রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যায়। একটির নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যটির নেতৃত্বে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দু'পক্ষই দলের নাম ও প্রতীকের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। কমিশন নাম ও প্রতীক স্থগিত রেখে দু'পক্ষকে আলাদা প্রতীক বরাদ্দ করে বলে একটি সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা জমা দিতে হবে। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণ করতে দুই শিবিরই নথিপত্র প্রস্তুত করেছে। কমিশন উভয় পক্ষকে নাম ও প্রতীকের উপর দাবির সমর্থনে প্রমাণ দাখিল করতে বলেছে। এই নথির ভিত্তিতেই ঠিক হবে দলের নাম ও প্রতীক কার হাতে যাবে। তাই নথি জমা পড়া এবং তার সময়সীমা দু'পক্ষের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঋতব্রতর অভিযোগের আগের দিন, রবিবার, মমতা নিজেই এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন। তাঁর দাবি, বিজেপি ভয় দেখিয়ে এবং টাকা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। জেলাশাসক, বিডিও, ওসি ও পুলিশ সুপারদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আরও দাবি, তৃণমূলে যোগ দিলে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে কর্মী ও বিধায়কদের। সাহস থাকলে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা নিয়ে আগেই ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল মমতা শিবির। তাদের অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে পুলিশ ঋতব্রতদের সুবিধা করে দিচ্ছে। স্ট্যাম্প পেপারে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষে হলফনামায় জোর করে সই করানো হচ্ছে বলেও তারা দাবি করে। ১৪ অক্টোবর রাজ্য পুলিশের ডিজি, আইজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়, ১৫ অক্টোবর চিঠি যায় মুখ্যসচিবকেও। অবিলম্বে রাশ টানা না হলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন ঋতব্রতদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মিথ্যে শুনলে সাধারণত রাগ হয়, কিন্তু এটা শুনে হাসি পাচ্ছে। ২১ জুলাইয়ের জমায়েত থেকে শুরু করে সর্বত্র সদস্য সংখ্যার প্রমাণ জোগাড় করতে পুলিশ-প্রশাসনের উপর নির্ভর করতে হয় যাদের, মানুষই তাদের শিক্ষা দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ বা নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। দু'পক্ষের নথি জমা এবং কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন সবার নজর।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.