
তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরোয়া বিবাদ এখন দিল্লির দরবারে। বলা যেতে পারে কালীঘাটপন্থী ও ঋতব্রতদের লড়াই এখন শেষ রাউন্ডে। 'আসল তৃণমূল' কে? দুই শিবিরের দুই দাবিপত্র ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে। দুই শিবিরের দাবি, পাল্টা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই চিঠি দিয়েছে। জানিয়েছে, আগামী সোমবার, ৬ জুলাইয়ের মধ্যেই দুই শিবিরকে চিঠির জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে তাদের নথিপত্র-সহ বক্তব্য জানাতে হবে।
একদিকে কালীঘাট, যেখান থেকে বরাবরের মতো জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা পড়ে। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থীরা। মমতার হাতে রয়েছে দলের তৃণমূল স্তরের নেতা কর্মীরা। আর ঋতব্রতর হাতে রয়েছে দলের অধিকাংশ বিধায়ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছিলেন। গতকালই দিল্লিতে ১০জনকে নিয়ে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিলেন। মূল লড়াই দলীয় প্রতীক আর তৃণমূলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা কোটি কোটি টাকার দখলদারী নিয়ে। দুই পক্ষই নিজেদেরকে আসল তৃণমূল বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দিয়েছে।
তৃণমূলের লড়াইতে রীতিমত ফাঁপড়ে পড়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। একহাতে নথি আর অন্যহাতে ক্যালকুলেটর। দুই পক্ষের নথিপত্র মিলিয়ে দেখছে, ক্যালকুলেটর হাতে যেন অঙ্ক কষছে— এই বিধায়ক কোন দিকে, ওই কাউন্সিলর কার পক্ষে। দাড়িপাল্লা কোন দিকে ভারী? সবকিছু খতিয়ে দেখেই রায় দিতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে।
বিধানসভা ভোটের ভরাডুবির পর যে ফাটল শুরু হয়েছিল, তা এখন পুরোদস্তুর দুই টুকরো— একদিকে পুরনো নেতৃত্ব, অন্যদিকে নতুন দাবিদার। স্পিকারের কাছে চিঠি, পাল্টা চিঠি, তারপর কমিশনের কাছে চিঠি, পাল্টা চিঠি— যেন বাংলার রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা। সোমবার বিকেল ৫.৩০-এর মধ্যে দুই পক্ষের জবাব পাওয়ার পর জমা পড়া নথি, সংগঠনগত সমর্থন এবং বিধায়ক-নেতাদের অবস্থান খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে পারে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতির ভবিষ্যৎ।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.