Tourism: শহরের ধুলো-ধোঁয়া থেকে ১ ঘণ্টায় মুক্তি! ঘুরে আসুন হাওড়ার এই ‘সিক্রেট’ জায়গা থেকে

Published : Jun 03, 2026, 12:45 AM IST
Tourism Howrah Ganga

সংক্ষিপ্ত

West Bengal Tourism: সারাদিনের জ্যাম, হর্ন, অফিসের প্রেসার—মাথা ঝিমঝিম? দূরে পাহাড়-সমুদ্র যেতে সময় নেই? তাহলে কলকাতা থেকে মাত্র ১-১.৫ ঘণ্টায় পৌঁছে যান হাওড়ার ‘গড়চুমুক’ আর ‘গাদিয়াড়া’য়। একদিকে দামোদর আর হুগলি নদীর মিলন, অন্যদিকে ৫৩ নং গেটের জল ছাড়ার গর্জন। চারপাশে ঘন সবুজ, ডিয়ার পার্ক, মৃগদাব। নদীর ঠান্ডা বাতাসে কাছের মানুষটার হাত ধরে বসে থাকুন।

Travel and Tourism: 'কোয়ালিটি টাইম' কথাটা আজকাল শুধু রিলেই দেখি। কাজ, ফোন, রিলসের ভিড়ে কাছের মানুষটাকে সময় দেওয়াই হয় না। দরকার একটা ব্রেক। এমন জায়গা যেখানে নেটওয়ার্ক উইক, কিন্তু কানেকশন স্ট্রং। হাওড়া জেলার শ্যামপুর ব্লকে লুকিয়ে আছে এমনই দুই রত্ন—গড়চুমুক আর গাদিয়াড়া। স্থানীয় লোকজন চেনেন, কিন্তু পর্যটকের ভিড় এখনও কম। তাই নির্জনতার নিশ্চয়তা রয়েচে। সবুজ মাঠ, নদীর বাঁক, পাখির ডাক—প্রেম করার, পরিবারের সঙ্গে গল্প করার আদর্শ ঠিকানা।

গড়চুমুক-৫৮ গেট আর ডিয়ার পার্কের দেশ

কলকাতা থেকে ৬০ কিমি, হাওড়া স্টেশন থেকে ২ ঘণ্টা। এখানেই দামোদর নদ হুগলিতে মিশেছে। কী দেখবেন: ৫৩টা লকগেট দিয়ে গর্জন করে জল পড়ছে—এই দৃশ্য মন ভরাবে। পাশেই ‘মৃগদাব’ ডিয়ার পার্ক। হরিণ, ময়ূর, খরগোশ ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাচ্চাদের জন্য পার্ক, বোটিং। একটু এগোলেই আটান্ন গেট। ব্রিজের উপর দাঁড়ালে দু'দিকে শুধু জল আর সবুজ। কেন যাবেন: ফটোশুট, প্রি-ওয়েডিং, ফ্যামিলি পিকনিকের জন্য বেস্ট। নদীর ধারে বসে বাড়ির লুচি-আলুরদম খাওয়ার মজাই আলাদা। ভোরে গেলে কুয়াশা মাখা নদী পাবেন, বিকেলে সানসেট।

গাদিয়াড়া-তিন নদীর মোহনা, নিরিবিলি স্বর্গ

গড়চুমুক থেকে ১০ কিমি দূরে গাদিয়াড়া। এখানে হুগলি, রূপনারায়ণ আর দামোদর মিশেছে। কী দেখবেন: বিশাল চওড়া নদী। জোয়ারের সময় ঢেউ দেখলে মনে হবে সমুদ্র। নদীর পাড়ে বসার জায়গা, ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ। নৌকা ভাড়া করে ঘুরতে পারেন। ওপারে গেঁওখালি, মহিষাদল রাজবাড়ি। চাইলে লঞ্চে করে ওপারে গিয়ে ঘুরে আসুন। কেন যাবেন: কাপলদের জন্য দারুণ। ভিড় নেই, হকারের চিৎকার নেই। শুধু আপনি, আপনার প্রিয়জন, আর নদীর হাওয়া। রাত কাটাতে চাইলে WBTDCL-এর টুরিস্ট লজ আছে। বারান্দায় বসে নদী দেখুন, চাঁদের আলোয় প্রেম করুন।

কী খাবেন, কীভাবে যাবেন, খরচ কত?

কী খাবেন: গাদিয়াড়া ফেরিঘাটের কাছে গরম গরম মাছ ভাজা, ডিম টোস্ট মাস্ট ট্রাই। লোকাল হোটেলে ইলিশ, কাতলা, ভেটকি থালি পাবেন ১৫০-২০০ টাকায়। গড়চুমুকে পিকনিক করতে চাইলে বাড়ি থেকে খাবার নিন। স্পটে দোকান কম। কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে উলুবেড়িয়া লোকাল। উলুবেড়িয়া স্টেশন থেকে ট্রেকার/বাসে ১ ঘণ্টা গড়চুমুক। গাড়ি নিয়ে গেলে NH-6 ধরে ২ ঘণ্টা। বাইকে গেলে রাস্তাটা আরও সুন্দর লাগবে। ধানক্ষেত, গ্রামের ভিতর দিয়ে যাওয়া। খরচ: ট্রেন+ট্রেকার ভাড়া যাওয়া-আসা ১০০ টাকা। বোটিং ৩০ টাকা/জন। ডিয়ার পার্ক এন্ট্রি ১০ টাকা। খাওয়া নিয়ে ৩০০-৪০০ টাকায় ফুল ডে ট্রিপ হয়ে যাবে।

কখন যাবেন?

বর্ষার পরে বা শীতকালে যান। সবুজ সবচেয়ে বেশি, নদীও ভরা থাকে। সকাল ৭টায় বেরোলে বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরতে পারবেন। ক্যাশ নিয়ে যান। UPI সব জায়গায় চলে না। পাওয়ার ব্যাংক মাস্ট। ছবি তুলতে তুলতে চার্জ শেষ হবে। জায়গাটা পরিষ্কার রাখুন। প্লাস্টিক ফেলবেন না। নদীটা আমাদেরই। দামি রিসর্ট, ফরেন ট্রিপ পরে হবে। আগে কাছের মানুষটাকে নিয়ে একটা বিকেল কাটান নদীর ধারে। হাওয়া যখন চুল এলোমেলো করবে, আর সে যখন আপনার কাঁধে মাথা রাখবে—বুঝবেন সুখ কিনতে হয় না, ফিল করতে হয়। গড়চুমুক-গাদিয়াড়া সেই ফিলিংসটাই দেবে।

ডিসক্লেইমার: বর্ষায় নদীতে নামা বা ৫৩ গেটের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক। প্রশাসনের বারণ মানুন। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া বোটিং করবেন না। রাতে অচেনা জায়গায় একা যাবেন না। টুরিস্ট স্পটের সময় ও ভাড়া পরিবর্তন হতে পারে, যাওয়ার আগে খোঁজ নিন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

মমতার ধর্নামঞ্চকে যাত্রাপালা বলে কটাক্ষ সন্তু পানের, দেখুন কী বলছেন
Mothabari Case: নাম মোফাক্কেরুল ইসলাম, একরামুল বাদনানির, মোথাবাড়ির ঘটনায় চার্জশিট এনআইএ-র