'অযথা তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে', এবার SIR নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অমর্ত্য সেন

Sanjoy Patra   | PTI
Published : Jan 24, 2026, 05:47 PM IST
Amartya Sen

সংক্ষিপ্ত

বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর অযথা তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে। একথা বললেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর অযথা তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে। একথা বললেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে বিপন্ন করতে পারে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টকে নিশ্চিত করতে হবে যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক ভোটদানের যোগ্যতা অর্জনের জন্য অসুবিধার সম্মুখীন হবেন না।'

তিনি এসআইআরের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি তবে প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, 'পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সাবধানতার সঙ্গে ভোটার তালিকার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা একটি ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে, তবে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে এটি ঘটছে না।'

এসআইআর-র শুনানির জন্য অমর্ত্য সেনকেও নোটিশ পাঠিয়েচিল নির্বাচন কমিশন। ৭ জানুয়ারি শান্তিনিকেতনে প্রতীচি-তে গিয়ে নোটিশ দিয়ে এসেছিলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও। জানা গিয়েছিল, অমর্ত্য সেনের জমা দেওয়া ফর্মে তাঁর মায়ের (অমিতা সেন) সঙ্গে বয়সের ফারাক ১৫ বছর বা তার কম দেখানো হয়েছে, যা 'যৌক্তিক অসামঞ্জস্য' (Logical Discrepancy) হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেই কারণেই তাঁকে এসআইআর শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

বোস্টন থেকে পিটিআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় অমর্ত্য সেন ভোটার তালিকা সংশোধনের গণতান্ত্রিক মূল্য এবং কীভাবে এটি ভোটদানের অধিকারকে শক্তিশালী করতে পারে তা জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়েছিলেন যে এই ধরনের অনুশীলন সাবধানতার সঙ্গে, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে করা উচিত। তিনি বলেন, 'এসআইআর তাড়াহুড়ো করে করা হচ্ছে, ভোটাধিকারসম্পন্ন ব্যক্তিদের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের অধিকার প্রমাণের জন্য নথি জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই। এটি ভোটারদের প্রতি অন্যায্য এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি অন্যায্য।'

এসআইআর চলাকালীন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সেন বলেছেন যে নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের মধ্যেও সময়ের চাপ স্পষ্ট ছিল। তিনি বলেন, 'যখন তারা শান্তিনিকেতনে আমার নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন - যেখানে আমি আগে ভোট দিয়েছি এবং যেখানে আমার নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য বিবরণ সরকারি রেকর্ডে নথিভুক্ত রয়েছে - তখন তারা আমার জন্ম তারিখে আমার মৃত মায়ের বয়স সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। যদিও একজন ভোটার হিসেবে আমার মায়ের বিবরণ সরকারি রেকর্ডেও সংরক্ষণ করা হয়েছিল।'

কাগজপত্রের সমস্যা গ্রামাঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী অনেক ভারতীয়ের জন্য সাধারণ বিষয় বলেও মনে করেন অমর্ত্য সেন। বলেন, 'গ্রামীণ ভারতে জন্মগ্রহণকারী অনেক ভারতীয় নাগরিকের মতো (আমি তখন শান্তিনিকেতন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি), আমার জন্ম সার্টিফিকেট নেই এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতার জন্য আমার পক্ষ থেকে আরও কাগজপত্র পেশ করতে হয়েছিল। যদিও আমি আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি আমি আমার বন্ধুদের কাছ থেকে সামান্য সাহায্য নিয়েই বেঁচে যাই। যাদের এত বিশ্বস্ত বন্ধু নেই তাঁদের জন্য আমি চিন্তিত ছিলাম। আমার বন্ধুরা আমাকে শক্তিশালী ইসি-র কঠোর দরজা দিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন।'

পশ্চিমবঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলকে এসআইআর রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে কিনা জানতে চাইলে সেন বলেন যে তিনি একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন দিতে পারবেন না, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গণতান্ত্রিক অখণ্ডতা সর্বোপরি থাকা উচিত। তিনি বলেন, 'আমি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নই, তাই আমি নিশ্চিতভাবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না। যারা আরও বেশি জানেন তাঁরা আমাকে বলেছেন যে, বিজেপি এই আন্ডার-অ্যাকাউন্টিং থেকে উপকৃত হবে। আমি জানি না এটা সত্যি কিনা, তবে আসল কথা হল ইসি-র একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া উচিত নয় এবং আমাদের গর্বের গণতন্ত্রকে অপ্রয়োজনীয় ভুল করতে বাধ্য করা উচিত নয়, তাতে যেই লাভবান হোক না কেন।'

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Suvendu Adhikari: আক্রান্ত বিজেপি নেতার বাড়িতে শুভেন্দু! পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শাসক দলকে ধুয়ে দিলেন
Nitin Nabin: নবীনকে 'বরণ' করবে বঙ্গ বিজেপি, ২ দিন রাজ্যে কী কী করবেন সর্বভারতীয় সভাপতি?