১ বাড়ির জন্য ৪২ বার ক্ষতিপুরণ! মমতার সরকারের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ বিজেপির

Published : Jan 04, 2026, 06:53 PM IST

পশ্চিমবঙ্গে বন্যাত্রাণে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বিজেপি। মমতা ব্যানার্জী সরকারের বিরুদ্ধে মালদা জেলায় এই কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যাগ রিপোর্টের ভিত্তিতে বিজেপি দাবি করেছে যে অযোগ্য ব্যক্তিদের ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। 

PREV
17
১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ বিদজেপির

ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) পশ্চিমবঙ্গে বন্যাত্রাণ ক্ষতিপূরণ বিতরণে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। মালদা জেলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই কেলেঙ্কারিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার জড়িয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

শনিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র কে কে শর্মা বলেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ বিতরণে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। তিনি জানান, কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর আদালত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলকে (সিএজি) বিস্তারিত তদন্ত করে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

27
ক্যাগ রিপোর্টে গরমিল

বিজেপি নেতা বলেন, ক্যাগ রিপোর্ট থেকে যে তথ্য উঠে এসেছে এবং যার কিছু অংশ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তা সরকারি তহবিলের বড় ধরনের তছরুপের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, "যে তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার পুরোপুরি দুর্নীতিতে ডুবে আছে।"

বিজেপি মুখপাত্রের মতে, বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ যেভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা "লুটপাট এবং অমানবিক লুন্ঠন"-এর সামিল। কারণ এই ত্রাণ তহবিলটি বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তার জন্য ছিল। কেকে শর্মা দাবি করেন যে ক্যাগ রিপোর্টের অনুসন্ধানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অনিয়ম প্রকাশ পেয়েছে।

এই কথিত কেলেঙ্কারিকে লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে শর্মা বলেন, যে বন্যাদুর্গতরা তাদের ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র এবং জীবিকা হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য দেওয়া সহায়তার ক্ষেত্রেও দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তে চার ধরনের বড় অনিয়ম সামনে এসেছে।

37
১ই বাড়ির জন্য ৪২ বার ক্ষতিপুরণ

প্রথম অনিয়মটি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে প্রায় ৬,৯৮৫ জনকে ঘরবাড়ির ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। শর্মা অভিযোগ করেন যে একই বাড়ি এবং একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জন্য দুই থেকে ৪২ বার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন ব্যক্তি একই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৪২ বার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যা গুরুতর দুর্নীতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

47
দ্বিতীয় অনিয়ম

দ্বিতীয় অনিয়মটি হলো ১,৬০৯টি পাকা বাড়ির ক্ষতির জন্য প্রায় ৭.৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বিতরণ। শর্মা দাবি করেন যে, ওই জেলার জেলাশাসকের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে বন্যায় কোনও পাকা বাড়ির ক্ষতি হয়নি। তা সত্ত্বেও, ১,৬০৯ জন সুবিধাভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

57
তৃতীয় অনিয়ম

তৃতীয় অনিয়মের ক্ষেত্রে শর্মা অভিযোগ করেন যে, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মচারী এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেতা সহ প্রায় ১০৮ জন ব্যক্তিকে দারিদ্র্যসীমার নিচে (বিপিএল) থাকা বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, যদিও তারা নিয়মিত বেতন পেতেন বা সরকারি পদে ছিলেন।

67
চতুর্থ অনিয়ম

চতুর্থ অনিয়ম হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৭ কোটি টাকা এমন ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে যারা বন্যাত্রাণের জন্য আবেদনই করেননি।

77
বিজেপির অভিযোগ

শর্মা বলেন, "এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে কেলেঙ্কারির মাত্রা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গরিব ও বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ কতটা অসংবেদনশীলতার সঙ্গে সামলেছে তা দেখিয়ে দেয়।"

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারাধীন এবং তিনি আত্মবিশ্বাসী যে ন্যায়বিচার হবে। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শর্মা বলেন, বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের রায়ই হবে সবচেয়ে বড় বিচার।

"পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে এই লুটপাট, লুন্ঠন এবং দুর্নীতির যোগ্য জবাব দেবে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মমতা সরকারকে পরাজিত করবে," তিনি বলেন।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories