আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলতে কোমর বাঁধছে বিজেপি। ১ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে 'পরিবর্তন যাত্রা' শুরু করতে চলেছে তারা। রাজ্যের ৯টি জায়গা থেকে একসঙ্গে এই যাত্রা শুরু হবে।
সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে হাওয়া তুলতে তৈরি হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। রাজ্যজুড়ে 'পরিবর্তন যাত্রা' নামে এক বড় কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে তারা।
বিজেপির এক শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই পরিবর্তন যাত্রা শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। পশ্চিমবঙ্গের ৯টি জায়গা থেকে একসঙ্গে এই যাত্রাগুলো বেরোবে। যাত্রার মূল লক্ষ্য হল, বিভিন্ন জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে গিয়ে দলের সংগঠনকে একেবারে তৃণমূল স্তরে আরও মজবুত করা এবং সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা।
যাত্রা শেষ হলে পশ্চিমবঙ্গে একটি বিশাল জনসভার আয়োজন করা হবে। সেই সভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দলের নেতারা মনে করছেন, এই জনসভা ভোটের আগে দলের শক্তি প্রদর্শনের একটা বড় মঞ্চ হবে এবং কর্মীদের মধ্যে নতুন করে জোশ আনবে।
এই যাত্রার বিভিন্ন পর্বে যোগ দেবেন দলের শীর্ষ নেতারা। তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। এছাড়াও দলের অন্যান্য বরিষ্ঠ নেতা ও পদাধিকারীরাও থাকবেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন জিতেছিল বিজেপি। এবার তাই আরও গোছানো ও আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে তারা। দল এবার মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট, বুথ-স্তরের সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং প্রতিটি কেন্দ্রে দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে 'প্রবাসী কার্যকর্তা' মডেলের ওপর জোর দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে সামনে এনে রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন দিশা দিতে চায় বিজেপি। দলের নেতারা বলছেন, এই যাত্রা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি মানুষের উদ্বেগ বোঝার এবং একটি বিকল্প শাসনব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরার জন্য একটি বড় জনসংযোগ অভিযান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই 'পরিবর্তন যাত্রা' রাজ্যের নির্বাচনী আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করবে। রাজ্যজুড়ে দলের কর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। বিধানসভা ভোটের আগে গতি বাড়ানোর জন্য এই কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।


