
বারুইপুর থানার চম্পাহাটির বাজি কারখানার বিরাট বিস্ফোরণ। পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান বাসিন্দারা। বিস্ফোরণে জখম হয়েছেন অন্তত ৫জন। তাঁদের বারুইপুর ও কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জখমদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। জানা যাচ্ছে, তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন তাঁরা পরপর তিনটে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। গিয়ে দেখেন দাউদাউ করে জ্বলছে কারখানা। কারখানার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। ভেঙে পড়েছে অ্যাসবেস্টর্সের চাল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বারুইপুর থানার পুলিশ। আসে দমকল বাহিনী। বিস্ফোরণের পরে আগুন লেগে যাওয়াতে ঝলসে গিয়েছে কারখানার পাশে থাকা একটি গাছ। ধুলোয় মিশেছে কারখানায় বড় অংশ।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বারুইপুরের চম্পাহাটিতে বাজি ব্যবসায়ীর বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছিল। তাতে অগ্নিদগ্ধ হন তিনজন। চম্পাহাটির হাড়াল গ্রামের সরদার পাড়ায় পিন্টু মণ্ডল নামে এক বাজি ব্যবসায়ীর বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়িতে মজুত থাকা বাজিতে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুরো বাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হন মহিলা-সহ আরও দু'জন। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নদিয়ার কল্যাণীর একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
২-২৫ সালের এপ্রিল মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমায় একটি অবৈধ বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন শিশু-সহ অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রনাথ বণিকের বাড়িতে অবৈধ বাজি তৈরির কারখানায় এই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল।
২০২৩ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরায় একটি অবৈধ বাজি কারখানায় একই ধরনের বিস্ফোরণে ন'জনের মৃত্যু হয়। গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ এবং উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরেও একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবার বিস্ফোরণের পর প্রশাসন এই ধরনের অবৈধ বাজি কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। পুলিশি অভিযান কিছুদিন চলে এবং তারপর তা থেমে যায়।