DA Strike: সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের রাজ্য নেতা চন্দন চট্টোপাধ্যায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যের সরকারি কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকারের বিদায়ের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে। 

বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে দিয়েই কাটছে সরকারি কর্মীদের ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার দাবিতে ধর্মঘট। কলকাতা -সহ একাধিক জেলায় পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে সরকারি কর্মীরা। কিন্তু প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতার দাবিতে পিছু হঠতে নারাজ সরকারি কর্মীরা। রাজ্যের সরকারি কর্মীরা DA-এর পাশাপাশি রাজ্যের শূন্যপদে নিয়োগ, অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের দাবিও জানিয়েছেন। ধর্মঘটীদের দাবি কলকাতা-সহ জেলা সর্বত্রই ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ধর্মঘটে।

মমতাকে আক্রমণ

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের রাজ্য নেতা চন্দন চট্টোপাধ্যায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যের সরকারি কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকারের বিদায়ের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছে। রাজ্যের সরকারি কর্মীরা রাজ্যের প্রতিটি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবার থেকে প্রচার করবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকার কীভাবে দুর্নীতি করেছে, কীভাবে রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত করছেন। একটি সভায় চন্দন চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী এখানে এসেছিল হামলা করার জন্য। কিন্তু কর্মচারীদের কাছে পাল্টা খেয়ে ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ২০২৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত করে দেখাবো। কারণ আপনিও বলেছিলেন, যে সরকার ডিএ দিতে পারে না সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার নেই। আপনাকে আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি যে সরকারি কর্মীরা হাড়়ভাঙা পরিশ্রম করে বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে বঞ্চনা হচ্ছে। ২০২৬ এ ক্ষমতাচ্যুত করে দেখাবো'।

সরকারি কর্মীদের নিশানায় পুলিশ

আন্দোলনকারীরা তৃণমূলের আশ্রিতদেরও সমালোচনা করেন। চন্দনের কথায় স্পষ্ট যে ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারী সরকারি কর্মীরা স্পষ্ট করে জানান, সামনেই ভোট। সরকারি কর্মীরা যদি ভোটের কাজ না করে তাহলে রাজ্য সরকার পারবে তো ভোট করাতে। প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন চন্দন।

নিশানা করেন পুলিশকেও। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪০ শতাংশ ডিএ বাকি। কিন্তু পুলিশ ১২ মাস কাজ করে ১৪ মাসের বেতন পায়। পাশাপাশি তারা বেআইনিভাবেও রোজগার করে বলে জানিয়েছেন। তিনি পুলিশ কর্মীদেরও হুমকি দেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের সমস্যায় ফেললে পুলিশ যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোলা তুলবে তখন সরকারি কর্মীরা তাদের ঘিরে রাখবে। চন্দনের কথায় পুলিশ যে শ্রেণী শত্রু না হয়ে ল়ড়াইয়ে না নামে। রাজ্যে সাড়ে ৬ লক্ষ শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারী সরকারি কর্মী।

মালদায় আন্দোলন

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকা ধর্মঘট ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি মালদহে। মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ দপ্তরে তালা মেরে বিক্ষোভ। প্রতিবাদ জানিয়ে সোচ্চার তৃণমূল পরিচালিত সরকারি সংগঠন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। আর যাকে ঘিরে কিছুক্ষণের জন্য একেবারে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জেলা শিক্ষাভবন চত্বর। দুই সংগঠনের মধ্যে হাতাহাতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ। তবে যদিও পরে পুলিশি নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, ধর্মঘটের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয় সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে। এর প্রতিবাদ করা হলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্যরা তাদের মারধর করে। পাল্টা রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের অভিযোগ, যারা সরকারি কর্মী না তারা পিকেটিং করে বাধা প্রদান করে সরকারি কর্মচারীদের কাজকর্মে। এরই প্রতিবাদ করাই যৌথ মঞ্চের সদস্যরা তাদের দিকে তেরে এসে মারধর করে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা

সারা পশ্চিমবঙ্গের সাথে সাথে বারুইপুর এসডিও অফিসের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছেন বহু মানুষ। মূলত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অবিলম্বে কার্যকর কারার দাবিতে, সকল স্তরের অনিয়মিত শিক্ষক শিক্ষা কর্মী কর্মচারীদের অবিলম্বে নিয়মিত করার দাবিতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অবিলম্বে ছয় লক্ষ শূন্য পদে স্বচ্ছ স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে, সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিটেলমেন্ট ও প্রতিহিংসা মূলক বদলি বন্ধ করতে হবে এই দাবিতে, বকেয়া প্রদানের শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মী পঞ্চায়েত ও পৌর কর্মচারীদের কে বাদ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের সুপ্রিম কোর্টে এম এ ফাইল করে চক্রান্ত ও বিভাজনের প্রতিবাদে আজ বারুইপুর এসডিও অফিসের সামনে কো-অর্ডিনেশন কমিটি এবং ১২ই জুলাই যৌথ মঞ্চের উদ্যোগে এক মহা অবস্থান বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উত্তর ২৪ পরগনা

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার ১০ টি ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি কর্মচারী বকেয়া ডিএর দাবিতে কখনো ইছামতি ব্রিজ,টাকি রোড, টাউন হল ইটিন্ডা রোডে প্রতিবাদ মিছিলে বেরিয়েছে ডিএ দাবিতে এই মিছিল উপরে কড়া নজর রেখেছে জেলা প্রশাসন যাতে কোনো রকম ভাবে অপ্রীতিকর ঘটনা না হয় জনজীবন প্রশাসনিক দপ্তর স্বাভাবিক রাখতে ব্যবস্থা নিয়েছে কোনো রকম ভাবে যাতে সরকারি প্রশাসনিক ভবনগুলো বন্ধ না হয় স্বাভাবিক প্রতিদিনকার মতো কাজকম্ম চালু থাকে তার জন্য সব রকম আগেভাগে নেমেছে রাজ্য সরকার প্রশাসন।

হুগলি

হুগলী পিপুলপাটি মোড় সংলগ্ন শিক্ষা ভবন বিল্ডিং এর গেটের সামনে,সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘট পালন ।।রাজ্য কোষাগার থেকে বেতন প্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী শিক্ষকদের যৌথ মঞ্চের ডাকে বকেয়া ডিএ সহ ৬ দফা দাবি নিয়ে গোটা রাজ্যসহ হুগলি জেলা সমস্ত বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস সহ আদালতে ধর্মঘট পালন করল নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি সহ অন্যান্য বামপন্থী সরকারি কর্মচারী সংগঠন।