
তাঁরই নেত্রী সিঙ্গুর থেকে টাটার কারখানা গায়েব করে দিয়েছিলেন। তাঁরই নেত্রীর বদান্যতায় আজ সিঙ্গুরে ধু ধু মাঠ। তাঁরই নেত্রীর অনশনের জোরে সিঙ্গুরের বাতাসে ঘুরে বেড়ায় না হওয়া একটা চাকরির খিদে। আজ হয়ত...হয়ত বা কখনও সখনও আফশোস করে ফেলে সেই সিঙ্গুর। যে সিঙ্গুরের হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছিলেন তৎকালীন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারপর হুগলি নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। সেই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী বর্তমান পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সেই সিঙ্গুরেই নাকি এখন জাঁকিয়ে বসেছেন। অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া সূত্র তো তেমনই বলছে! ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে পর্যটন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইন্দ্রনীল।
সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্ট বলছে স্ত্রীর নামে এই জমি কিনেছিলেন ইন্দ্রনীল। সরকারি নথিতে আমবাগান বলে উল্লেখ থাকলেও আদতে নাকি এটি একটি বিশাল ভিলা! কুড়ি সালের ডিসেম্বরে এই জমি কিনেছিলেন তিনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টে। যেখানে কোটি টাকার সুইমিংপুল থেকে শুরু করে সবকিছুই নাকি আছে। গল্প এখানেই শেষ নয়।
হলফনামা বলছে কুড়ি সালের ডিসেম্বরে কিনেছিলেন প্রায় উনিশ লক্ষ টাকায়! তিন মাসের মধ্যে হলফনামায় সেই জমির দাম হয়ে গিয়েছে চৌষট্টি লক্ষ! হলফনামায় কোনো নির্মাণ হয়নি বলা হয়েছে কিন্তু সেখানে তৈরী হুয়েছে বাগানবাড়ি, ভিলা। আর এনিয়েই শোনা যাচ্ছে নানান প্রশ্ন!
এই বাগান বাড়ি নাকি তৈরি করেছে পিসি ভাইপোর ঘনিষ্ঠ কোনো এক সাহা বিল্ডার্স! শোনা যাচ্ছে চন্দননগর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মুন্না আগারওয়ালও জড়িত! কার কত রহস্য জড়িয়ে এই ভিলার পরতে পরতে? তিন মাসে এত দামই বা বেড়ে গেল কী করে? কে দেবে এর উত্তর? সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এশিয়ানেট নিউজ বাংলা এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ভিত্তিতে রহস্য দানা বেঁধেছে। তাহলে কি ভিলার আড়ালে ফের আরেক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে শাসকদলের তাবড় কয়েক নেতা? ইন্দ্রনীল সেনের বকলমে কোন রাঘব বোয়ালের নাম উঠে আসবে? প্রশ্ন রইল।