
হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহ সেলিম বললেন সেলফি তোলা মানেই প্রেম নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি আর তৃণমূলের বিরুদ্ধে যারা যারা রয়েছে তাদের সকলের সঙ্গেই তিনি আলোচনা চান। একই সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধেও সরব হন সেলিম । তিনি বলেন, রাজ্য কংগ্রেস নেতা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন।
কথা বলা মানে সব নয়। অনেক সময় বিয়ে বাড়িতে কারও সঙ্গে দেখা হয় কেউ কেউ সেলফি তুলে নেন।সেলফি তোলা মানেই প্রেম নয়। তারপরই তিনি বলেন, 'আমি প্রথমে চেকে দেখি। আসলে ও কি চাইছে। তারপর দলে আলোচনা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত হবে। সবই তলিয়ে নিতে হয় বাজিয়ে নিতে হয়।' তিনি বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল মিলে বাংলার মানুষকে ভাগ করেছে। 'আমরা সব মানুষকে এককাট্টা করছি। আমরা বলছি মন্দির মসজিদ বলো না কাজের কথা বল শিক্ষার কথা বল।'
সিপিআইএম এর বৈঠক হয় আলিমুদ্দিন দপ্তরে। রাজনৈতিক ভাবে সমঝোতা, আসন সমঝোতা ভাগাভাগি এসব বিষয়ে আলোচনা আলিমুদ্দিনে হয়। বা অন্য রাজনৈতিক দল যদি থাকে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি জানিয়েছেন তাঁর দল এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বাম ফ্রন্টের মধ্যে তাদের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চলছে। সেটা দু এক দিনের মধ্যে শেষ হবে।
সেই বিষয়ে সেলিম জানান, 'আমরা আগে থেকেই বলে দিয়েছি আগে বামফ্রন্ট তারপর অনেক বামপন্থী দল আছে ব্যাক্তি আছে গোষ্ঠী আছে যারা বামফ্রন্টের মধ্যে নেই তারা বিজেপি এবং তৃণমূলকে হারানোর জন্য এককাট্টা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে ।বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়ে গেলে তার ভিত্তিতে যারা বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে যারা টেকসই লড়াই দেবে শেষ পর্যন্ত থাকবে মানুষের অধিকার দাবি দাওয়ার কথা বলবে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব।'
সিপিআইএম নেতা বলেছেন যেভাবে ফাসিস্ট শক্তি বাড়ছে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তম ঐক্য তারা চাইছেন।পার্টির রাজ্য সম্মেলেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তাঁরা জানান। বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে যারা থাকবে তাদের সবার সঙ্গে সিপিএম নেতারা কথা বলবেন। এখনও পর্যন্ত দলে তেমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সেলিম।
যদিও সিপিএম সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সেলিমের এই বৈঠক দল ভালভাবে নেয়নি। কারণ হুমায়ুন কবীর এখনও নিজের অবস্থান সম্পর্কে যা জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্যই হল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া। বামেরা এখনও পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে বিজেপি ও তৃণমূলের থেকে তারা সমান দূরত্ব বাজায় রাখার চেষ্টা করছে।