রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। ২০২১ সাল থেকে রাজ্যে চালু রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। বর্তমানে এই প্রকল্পের মধ্য মহিলাদের মাসে মাসে ১২০০ টাকা আর পিছিয়ে পড়া তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের ১৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। বিধানসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পের টাকা বাড়ান হতে পারে বলে অনুমান রাজ্যবাসীর।
26
ভোটের বাজারে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের গুরুত্ব
রাজ্যে লোকসভা হোক বা বিধানসভা নির্বাচন হোক, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ওয়াকিবহাল মহল মনে করে এই প্রকল্পের মাধ্যমেই রাজ্যের মহিলাদের ভোট সুনিশ্চিত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাই একটা সময় বিরোধীরা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করলেও বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় 'রাম-বাম' সকলেই লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে নিজেদের প্রচার যন্ত্রে সামিল করেছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও।
36
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পক্ষে বিজেপি!
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পক্ষেই সওয়াল করছেন বিজেপি নেতারা। তাদের কথায় অন্যান্য রাজ্যে বিজেপি অনেক বেশি টাকা দেয় এজাতীয় মহিলাদের প্রকল্পে। দিল্লি, বিহারের মত রাজ্যের উদাহরণও তারা তুলে ধরেন। এবার সেই পথে হেঁটেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী হবে।
নদিয়ার একটি জনসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পক্ষেই সওয়াল করেন। তিনি বলেন, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমরাও ভাল দেব।' টাকা অঙ্ক না বললেও তিনি ওড়িশা, দিল্লির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওড়িশায় মহিলাদের বছরে একবার একাকলীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। দিল্লিতে রেখা গুপ্ত মাসে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেন। হরিয়ানার বিজোপি সরকার দেয় ২১০০ টাকা। আর মহারাষ্ট্রে দেওয়া হয় ২০০০ টাকা।
56
শুভেন্দুর বার্তা
অনেক সময়ই রাজ্যে গুঞ্জন চলে যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মত প্রকল্প বন্ধ করে দেবে। কিন্তু রাজ্যবাসীকে সেইসব কাথায় কান না দিতেই পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির সংকল্প যাত্রা থেকে প্রায় একই কথা বলতে শোনা গেছে সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে।
66
অমিত শাহের বার্তা
গত মাসে তিন দিনের সফরে কলকাতায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। সেখানেই একটি বৈঠকে তিনি সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন, 'ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরি হওয়ার পরেও এখনকার বর্তমান সরকার যে সমস্ত প্রকল্প চালাচ্ছে তার একটিও বন্ধ করা হবে না। পাশাপাশি বিজেপির ইস্তেহারে যে সব প্রকল্পের কথা উল্লেখ থাকবে সেগুলি বাস্তাবায়িত করার চেষ্টা করা হবে।'