
অস্ত্র পাচার রোধে বড়সড় সাফল্য পেল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। বুধবার বিকেলে বহরমপুর সংলগ্ন সুভাষনগর এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং জাল নোট-সহ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ কার্তুজ। ধৃতদের নাম কওসর আলি, রফিকুল মণ্ডল ওরফে রফি এবং সাকিরুল শেখ। কওসরের বাড়ি রানিনগর থানার শেখপাড়ায়। রফিকুল ইসলামপুর এবং সাকিরুল সাগরপাড়া থানার বাসিন্দা। ধৃতদের বুধবার বহরমপুরে পাকড়াও করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে আনা হয়েছিল। মুর্শিদাবাদের ডোমকল-সহ বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের কারবার চালানোর উদ্দেশ্যেই তারা এগুলি মজুত করেছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বহরমপুর আদালতে পেশ করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।
মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাজিদ ইকবাল খান বলেন, 'গতকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টে নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা হানা দিয়েছিলাম। তল্লাশি চালিয়ে আমরা তিনজনকে আটক করি। তাদের কাছ থেকে দুটো সেভেন এমএম পিস্তর, ৪টে খালি ম্যাগাজিন, ৩০০ রাউন্ড কার্জুজ ও ১০ হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার করি। আরও তথ্য জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের হেফাজতে পেলে আরও কিছু জানা যাবে। কোথা থেকে অস্ত্র আসছিল, কাকে বিক্রির ছক ছিল, সবই জানা যাবে। রফিকুল মণ্ডলের নামে বহরমপুর থানায় আগেও একটা অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুজন বাইকে করে আসছিল, একজন বাসে করে। গত ৬ মাসে অনেক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বেশি লোককে ধরে বেশি তথ্য জানার চেষ্টা করছি।'
রবিবার হরিহরপাড়া থানা দুই অস্ত্র পাচারকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মেলে সাফল্য। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে হরিহরপাড়ার সদানন্দপুর এলাকায় এক যুবক ব্যাগ হাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই হরিহরপাড়া থানার আইসি অরূপ কুমার রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে হানা দেয়। সন্দেহভাজন ওই যুবককে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও দু’রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার হয়। ধৃতের নাম সাবির হোসেন (৩৬), বাড়ি বহড়ান এলাকায়। সোমবার তাকে বহরমপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর আসগর শেখ নামে এক যুবকের নাম জানতে পারে পুলিশ। আসগরের বাড়িও বহড়ান গ্রামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও আটটি কার্তুজ।