এবার কনকনে ঠান্ডার লম্বা ইংনিসের সাক্ষী রইল গোটা বঙ্গ। উত্তরবঙ্গের তুলনায় এবার শীত বেশি কাবু করেছে দক্ষিণবঙ্গকে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের তুলনায় পশ্চিমের জেলাগুলির তাপমাত্রার পারদ-পতন ছিল বেশি। কিন্তু আর কতদিন এমন কনকনে ঠান্ডা থাকবে? এখনও স্পষ্ট উত্তরদেয়নি আলিপুর হাওয়া অফিস। তবে হাওয়া অফিসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত কনকাতা-সহ বঙ্গে থাকবে কনকনে ঠান্ডা।
25
কনকনে ঠান্ডা
সকালে মেঘলা আকাশ, হুহু করে বইছে উত্তুরে হিমেল হাওয়া। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে। রাতের থেকে দিনের তপমাত্রার পতন তুলনামূলক ভাবে বেশি হচ্ছে। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শীত যে ইংনিস শুরু করেছে তাই কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা বঙ্গবাসীকে। দীর্ঘ দিন পরেই এমন কনকনে ঠান্ডা লম্বা ইনিংস খেলল। শীতবিলাসিরা খুশি হলেও যাদের সকাল বা রাতে কাজে বেরুতে হয় তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে শীতের দাপট।
35
কলকাতার আবহাওয়া
আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৭ ডিগ্রি কম। কিন্তু গতকাল দুপুরে অর্থাৎ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫.৯ ডিগ্রি কম। আপাতত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত কলকাতার তাপমাত্রা তেমন কোনও কোনও পরিবর্তন হবে না বলেও জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আজও ২০ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে পৌষ সংক্রান্ত পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা থাকার কথা। যার অর্থ ১৪ বা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এবার শীত বিরাজ করবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে। আলিপুর হাওয়া অফিসের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী কনকনে ঠান্ডা থাকছেই। তারপর উত্তরের জেলাগুলিতে রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস।
55
বঙ্গে এত ঠান্ডার কারণ
১। উত্তর-পশ্চিম থেকে আসা হিমেল হাওয়া এবার বাধা পাচ্ছে না। সরাসরি দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করতে পারছে।
২। প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পরিস্থিতি চলছে। তার কারণে ভারতে তীব্র শীতের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
৩। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আর ঘূর্ণাবর্তের কারণে শীত বাধা পায়। এগুলি এবার হিমালয়ের ওপর দিয়ে দ্রুত চলে যায়।
৪। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে জেলাগুলিতে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা থাকছে। যার কারণে দিনের বেলাও সূর্যের আলো বাধা পাচ্ছে। তাই দিনের বেলার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকছে।