
বিশ্বব্যাংক পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং আয়ু বাড়ানোর জন্য একটি কর্মসূচিতে অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বিস্তৃত ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কার কর্মসূচি, যা ২৮৬ মিলিয়ন ডলার ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের জন্য উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ (NCDs) ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। এটি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রোগী-কেন্দ্রিক যত্ন, স্বাস্থ্য ফলাফলের পরিমাপ উন্নত করা এবং চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতেও সাহায্য করবে।
এই কর্মসূচিটি লিঙ্গ-ভিত্তিক হিংসা (GBV) পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করতেও সহায়তা করবে, যার মধ্যে ছেলে, বিবাহিত কিশোর-কিশোরী এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য নির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুর—এই পাঁচটি জেলায় কর্মসূচিটি উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াবে এবং মাতৃ ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাবে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ গত দুই দশকে স্বাস্থ্যখাতে ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। ২০১০-২০১২ সালে প্রতি ১,০০০ জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুর হার ৩২ থেকে কমে ২০১৮-২০২০ সালে ১৯-এ দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে মোট প্রজনন হার ছিল প্রতি মহিলার ক্ষেত্রে ১.৬৪, যা দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।
এর ফলে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। তবে, এই সাফল্য এবং কিশোরী মেয়েদের মধ্যে উচ্চ সাক্ষরতার হার (৮৯ শতাংশ) থাকা সত্ত্বেও, ভারতে কিশোরী গর্ভধারণের হারে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে (১৬ শতাংশ)। এর ফলে ২০১৮-২০২০ সালে প্রতি ১,০০,০০০ জীবিত জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ১০৩।
পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাগুলি প্রজনন, মাতৃ এবং কিশোর-কিশোরীদের যত্নের ক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
বিশ্বব্যাংকের ভারতের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর পল প্রোসি বলেন, "এই কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গকে আরও ন্যায়সঙ্গত এবং উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে সাহায্য করবে, যা নারী, কিশোর-কিশোরী এবং অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পরিমাপযোগ্য ফল দেবে।" তিনি আরও বলেন, "যাচাইকৃত ফলাফলের সঙ্গে অর্থায়নকে যুক্ত করে এবং প্রশাসন ও জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে, এই উদ্যোগটি পরিষেবার ঘাটতি এবং পদ্ধতিগত বাধা উভয়ই মোকাবিলা করবে, যা দুর্বল সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এটি ভালো চাকরি খোঁজার ক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।"
কর্মসূচির টাস্ক টিম লিডার রাহুল পান্ডে এবং মেঘনা শর্মা বলেন, "উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরে যত্নের ধারাবাহিকতা শক্তিশালী করা অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।" তাঁরা আরও বলেন, "যত্নের গুণমান এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক হিংসার প্রতিক্রিয়ার উপর কর্মসূচির মনোযোগ স্বাস্থ্য ফলাফল এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর আস্থা উন্নত করার জন্য অপরিহার্য।"
ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (IBRD) থেকে প্রাপ্ত ২৮৬ মিলিয়ন ডলারের এই ঋণের চূড়ান্ত মেয়াদ ১৬.৫ বছর, যার মধ্যে তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।