বর্তমানে বঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজে শুনানি প্রক্রিয়া চলছে। এই শুনানি প্রক্রিয়াতেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন আনম্যাপড ও লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কারণে প্রচুর মানুষকে নোটিশ পাঠিয়েছে। তাতেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে এই প্রচুর মানুষের শুনানি করার পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ত্রুটি মুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে কিনা? কিন্তু নির্ধারিত দিনে কাজ শেষ করতে তৎপর কমিশন।
26
কমিশনের নির্দেশিকা
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্বাচন কমিশন একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারিতেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে তৎপর কমিশন ।
36
সংশয়ে কমিশনের আধিকারিকরা
তবে SIR-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরাও এই বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কথায়, যে পরিমাণ মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাতে নির্ধারিত সময়ে, ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে কমিশন নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট করে দিয়েছে ডেডলাইন মানতে তারা তৎপর।
৩১ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে শুনানির নোটিশ পাঠাতে হবে ভোটারদের। বিএলও-রা সেই নোটিশ পৌঁছে দেবেন ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায়। তারপর আর কোনও নোটিশ গ্রাহ্য করা হবে না।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানির যাবতীয় কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি কেন্দ্রে ভোটারদের হাজারির তথ্য টাঙাতে হবে।
আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে মাইক্রোঅবজারভারদের তুল নিতে হবে, তারা রোল অবজার্ভারদের কাজে সাহায্য করবেন।
সিস্টেমে আপলোড হওয়া সমস্ত ডিজিটাল নথি, মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভার ইনপুট ও ERO/AERO-দের 'সুপার চেকিং' করতে হবে। এই তদারকি করবেন ডিইও, রোল অবজার্ভার, স্পেশাল রোল অবজার্ভার, সিইও।
জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের দায়িত্ব, কোনও নিময় ভাঙা না হয়, সব মামলার নিয়ম মেনে নিষ্পত্তি হয়।
এসআইআর শুনানি শেষে সেই সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করার পরে তা সুপার চেকিং করতে হবে ডিইও অথবা বিশেষ পর্যবেক্ষকদের।
56
নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ
কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এসেছে। শুক্রবার রাজ্যে সিইও অফিসে এনিয়ে বৈঠক হয়েছে। এরপরই এসআইআর-এর কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাজের সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন। প্রতিটি ধাপের কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ও ঠিক করে দেওয়া হল।
66
SIR নিয়ে বিতর্ক
রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক রয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে প্রথম থেকেই। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোট কর্মীরাও একাধিকবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ডেডলাইনও পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও এবার নির্ধারিত দিলে তালিকা প্রকাশে অনড় নির্বাচন কমিশন। তেমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।