সোমবার কলকাতায় বিজেপি-র সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির সভায় যোগ দিতে প্রতিবেশি রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও বহু সংখ্য়ক বিজেপি সমর্থক এসেছিলেন। রাজ্যে ভোট গণনা চলছে। বিকেল পর্যন্ত মুখ্য়মন্ত্রী রঘুবর দাস বলছিলেন চূড়ান্ত ফল বের হলে দেখা যাবে বিজেপি-ই জয়ী হয়েছে। সেই আশায় বুক বাঁধছিলেন তারাও। কিন্তু কলকাতা থেকে ঘরে ফেরার পথেই এল খবরটা, তাদের সরকার আর নেই। পদত্যাগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস।

সোমবার সকালে গণনার একেবারে শুরুতে বিজেপির সঙ্গে মহাজোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই একটু হলেও এগিয়ে ছিল জোট প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত ৮১ সদস্যের ঝাড়খণ্ড লোকসভায় মোট ৪৭টি আসন জিতে বিশাল জয় পেল মহাজোট।

২০১৪ সালের ভোটে বিজেপি জিতেছিল ৩৭টি আসন। এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে  মাত্র ২৫-এ। আর তাদের সহযোগী ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা (প্রজাতান্ত্রিক)-এর জুটেছে মাত্র ৩টি আসন। সব মিলিয়ে এনডিএ-র ঝুলিতে এসেছে ২৮টি আসন।

অন্যদিকে মহাজোটের ৪৭টি আসনের মধ্য়ে শিবু সোরেন-হেমন্ত সোরেন'এর ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা ৩০টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হয়েছে। আর মহাজোটের বাকি দুই শরিক, কংগ্রেস ও আরজেডি পেয়েছে যথাক্রমে ১৬ ও ১টি আসন।

এছাড়া অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্ট্স ইউনিয়ন বা এজেএসইউ পেয়েছে ২ টি আসন এবং সিপিআই (এমএল) ও শরদ পওয়ারের এনসিপি পেয়েছে ১টি করে আসন।

বিজেপির এই হারে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো জামেশেদপুর পূর্ব কেন্দ্রে, গেরুয়া শিবিরেরই প্রাক্তনী সর্যু রাই-এর কাছে ১৫০০০-এরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস।  রাতেই রাঁচির রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন রঘুবর। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে ভারপ্রাপ্ত মুখ্য়মন্ত্রী হিসেবে কাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল।

সব মিলিয়ে হিন্দি বলয়ে একের পর এক রাজ্য হাতছাড়া হয়ে বিজেপি এখন বেশ চাপে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশের ৭১ শতাংশ এলাকা ছিল বিজেপির দখলে। দুই বছর পর তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশে।