হরিয়ানা ভোটের ফল বের হতে ভারতীয় রাজনীতির অলিন্দে উঠে এসেছে নতুন একটি নাম, দুশ্যন্ত চৌটালা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরেই দল গড়ে এইবার হরিয়ানায় ১০টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তাঁর জননায়ক জনতা পার্টি। তিনিই কিংমেকার হবেন, এরকমই মনে করা হচ্ছিস। কিন্তু মাঝকান থেকে খেলা অনেকটাই পাল্টে দিয়েছেন গোপাল কান্দা। তাঁর হরিয়ানা লোকহিত পার্টি ও আরও সাত জয়ী বিজেপি বিধায়ক বিজেপিকে সমর্থন করায় সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যা চলে এসেছে বিজেপির হাতে। আর তারপরই পাল্টি খেলেন দুশ্যন্ত। এখনও তিনি ল্যাজে খেলাচ্ছেন কংগ্রেস ও বিজেপি দুই দলকেই।

চূড়ান্ত ফলাফল বের হওয়ার আগেই তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করেছিলেন। বলেছিলেন বিজেপি-র ৭৫-এর লক্ষ্যপূরণ হচ্ছে না, সরকার গঠন করতে পারলে হয়। তারপর জানান, ভোটের ফল বলছে রাজ্য়ে বদল চাইছে মানুষ। কংগ্রেসের কাছে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য আবদার করেছেন, এমন খবরও পাওয়া গিয়েছিল।

এখন অবশ্য পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। কংগ্রেস ও জেজেপি মিলেও সরকার গঠন করতে পারবে না। দুই দলের মিলিত বিধায়কের সংখ্যা ৪১। ম্যাজিক সংখ্যার থেকে ৫ কম। এই অবস্থায় চৌটালা সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন হরিয়ানায় একটি শক্তিশালী সরকার গঠন করতে চান তিনি।

বিজেপি না কংগ্রেস, এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি। এখনও পাঁচিলের উপরই হেঁটেছেন। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিজেপির দিকেই পাল্লা ভারি। তিনি জানিয়েছেন যারা একটি শক্তিশালী ও স্থিতিসীল সরকার গড়ে পারবে তাঁদেরকেই সমর্থন করবেন তিনি। কংগ্রেস বা বিজেপি কেউই অচ্ছুত নয়।  

তিনি আরও জানান তাঁর সমর্থন পাওয়ার প্রধানতম শর্ত হরিয়ানার উন্নয়ন। যাঁদেরই তিনি সমর্থন করুন, সেই সরকারের সঙ্গে একটি সাধারণ ন্যুনতম কর্মসূচির মাধ্যমে জোট গড়তে চান। যার মধ্যে রাজ্য়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হরিয়ানাবাসীর জন্য ৭৫ শতাংশ সংরক্ষণ, পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি থাকবে।  

বিজেপি হরিয়ানার মসনদের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেলেও এখনও সরকার গঠনের আশা ছাড়েনি কংগ্রেস। চৌটালার এই বক্তব্যের পরই হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর হুডা বলেছেন, বার্ধক্য ভাতা, হরিয়ানাবাসীর জন্য ৭৫ শতাংশ কর্মসংরক্ষণের মতো বিষয়গুলি কংগ্রেসের ইস্তেহারেই রয়েছে।। কাজেই সাদারণ ন্যুনতম কর্মসূচি গড়তে বিশেষ সমস্যা হবে না।

বিজেপির হাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যা থাকলেও, গোপাল কান্দার মতো নারী নির্যাতনে অভিয়ুক্তের সমর্থন নেওয়া নিয়ে বিজেপি দলের মধ্য়েই আপত্তি রয়েছে। আর নির্দলদের উপরও সেইভাবে ভরসা করা যায় না। কাজেই জেজেপির সমর্থন পেলে তাঁদেরও উপকার হবে। কাজেও বিজেপি সংখ্যা জোগার করার পরেও শেষ হাসি চৌটালাই হাসবেন বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।