কথায় বলে সকালবেলাতেই দিন কেমন যাবে তার আভাস মেলে। মহারাষ্ট্রে ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগেই বিজেপির রাজ্য দপ্তরে লাড্ডু তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছিল। উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েচিবল শিবসেনা দপ্তরেও। কিন্তু সকালের দিকে জোটের যে ২০০ আসন টপকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল তা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। শিবসেনা সাধ্যমতো লড়লেও বিজেপি তাদের গতবারের প্রাপ্ত আসন ধরে রাখতে পারবে কি না তাই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আর এইরকম পরিস্থিতি তৈরি হতেই দর কষাকষির খেলা শুরু করে দিয়েছে শিবসেনা।

ভোটের প্রচারপর্ব থেকেই আদিত্য ঠাকরে-কে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তুলছিল শিবসেনা। ভোটের ফলে বিজেপির দুর্বলতা প্রকাশ পেতেই সেই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০-৫০ ফর্মুলায় মন্ত্রীসভার আসন বন্টনের দাবিও করা হচ্ছে। জোর খবর ৮০টির বেশি আসন পেলে শিবসেনা বিজেপির হাত থছেড়ে কংগ্রেস-এনসিপি জোট শিবিরেও ভিড়তে পারে।  

শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত অবশ্য এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন বিজেপি এবং শিবসেনাই সরকার গঠন করবে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবেই শিবসেনা নির্বাচনে লড়েছে। জোট বেঁধেই দুই দল এগোবে। ভোটের আগেই ৫০-৫০ সূত্র তৈরি হয়েছিল, তাতে কোনও পরিবর্তন হবে না। তবে সবটাই উদ্ধব ঠাকরের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

বর্তমানে ঠাকরে পরিবারের বাসভবন 'মাতশ্রী'তে সঞ্জয় রাউত-সহ শিবসেনার শীর্ষ নেতারা উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা প্রফুল প্যাটেল এসেছেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারের বাড়িতে। দুই তরফেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

এখনও পর্যন্ত বিজেপি এবং শিবসেনা জোট সহজেই মহারাষ্ট্রের সরকার গঠন করার মতো অবস্থানে রয়েছে। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় এই মুহূর্তে শিবসেনা ৬২ টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এগিয়ে ১০৪ আসনে। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রের মোট আসনের অর্ধেক সংখ্যক আসন তো দূর অস্ত, ২০১৪ সালে পাওয়া ১২২টি আসনও হবিজেপি ধরে রাখতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এতদিন এই জোটে বিজেপিই ছিল 'বিগ ব্রাদার'। কিন্তু  সেনা যদি ৮০ টি আসনের গন্ডি অতিক্রম করে যায়, তাহলে কিন্তু সমীকরণ পাল্টে যাবে। সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই তারা জোটের বড় শরিকের উপর চাপ বাড়াবে। এখন কতটা চাপ তারা দেয় সেটাই দেখার।