বাংলার মতো তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২১-এরও দামামা বেজে গিয়েছে। ২৩৪ আসনের বিধানসভার জন্য ভোটগ্রহণ করা হবে এক দফাতেই, ৬ এপ্রিল। তার আগে রাজ্যে রাজনৈতিক ততপরতা তুঙ্গে। দিন কয়েক আগেই এই দক্ষিণী রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন, পা পড়ল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর। তামিল যুব সম্প্রদায়ের মন জয়ের কোনও চেষ্টাই ছাড়লেন না তিনি।

এদিন, মুলাগামুডুবনের সেন্ট জোসেফস ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খুব হালকা বেশ কিছুটা সময় কাটালেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গল্প করেন তিনি। গানের সুরে ছাত্রী এবং স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে নাচে পা-ও মেলান।

অনেকেই হয়তো জানেন না, জাপাানি মার্শাল আর্ট 'আইকিদো'-তে রাহুল গান্ধীর ব্ল্যাক বেল্ট রয়েছে। এদিন এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁকে সেই মার্শাল আর্ট-এর অনুশীলনও করতে দেখা যায়। রাহুল গান্ধীর হাতের চাপে ওই শিক্ষাার্থী মাটিতে বসে পড়ে। এরপর এক ছাত্রী রাহুল'কে পুশ-ইপ"এর চ্যালেঞ্জ জানায়। রাহুল সেই চ্যালেঞ্জে জেতেন তো বটেই, তারপর তাকে একহাতে পুশ-আপ করার চ্যালেঞ্জও করেন। সেইসময় উপস্থিত অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা উচ্ছ্বাসে  চিৎকার করে ওঠে।

যুবদের মধ্য়ে আসার আগে কংগ্রেস নেতা দক্ষিণ কন্যাকুমারী জেলার নাগারকৈলে একটি জনসমাবেশেও অংশ নেন। সেখানে রাহুল গান্ধী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে ক্ষতিকর শক্তি এবং এক জাতি এক সংস্কৃতি এবং এক ইতিহাসের ধারণার প্রবর্তনকারীদের দূরে রাখতে ভারতকে পথ দেখাতে পারে তামিলনাড়ুর জনগণ।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি দাবি করেন, আরএসএস এবং নরেন্দ্র মোদী তামিল ভাষা ও সংস্কৃতিকে অপমান করেছেন। আর সেই নরেন্দ্র মোদীকে প্রণাম করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী কে পলানিস্বামী। তামিলনাড়ুর জনগণকে এই নির্বাচন থেকে তিনি দুটি বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, ভারত বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাসের দেশ এবং তামিল জনগণ সেই বৈচিত্রকে সম্মান করে। আর তামিল সংস্কৃতি, ভাষা এবং তামিল ইতিহাসকে লাঞ্ছিত করার এবং নষ্ট করার জন্য নরেন্দ্র মোদী এবং আরএসএসের প্রচেষ্টাকে তারা গ্রহণ করবেন না।

আসন্ন নির্বাচনে শাসক দল এআইএডিএমকে জোট বেঁধেছে বিজেপির সঙ্গে। আর অপরদিকে রয়েছে এম কে স্টালিনের ডিএমকে এবং কংগ্রেস দলের জোট। তামিলনাড়ুততে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি বিধানসভা আসন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এআইএডিএমকে ১৩৬টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গড়েছিল। অপপরদিকে ডিএমকে পেয়েছিল ৮৯টি আসন। আর কংগ্রেসের ভাগে জুটেছিল ৮টি আসন। ১টি আসন পেয়েছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ।