বাস্তুশাস্ত্র, এই বাস্তু শব্দটি এসেছে বস্তু থেকে। বাস্তু বলতে সব কিছুকেই বুঝায়- তা একটি স্থান হতে পারে- কিংবা একটা বাড়িও হতে পারে। ভারত উপমহাদেশে প্রায় সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে স্থাপত্য নির্মাণকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সভ্যতার শুরু থেকেই ভারতীও উপমহাদেশে শিল্পচর্চাকে ঊর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে। স্থাপত্যশৈলী উপবেদের অন্যতম বিষয়। স্থাপত্য উপবেদ বা স্থাপত্যশাস্ত্র চারটি উপবেদের অন্যতম। 

আরও পড়ুন- আগামী বছরে বিপুল অর্থপ্রাপ্তির যোগ রয়েছে এই রাশিগুলির!

স্থাপত্য উপবেদ আবার অথর্ববেদ থেকে এসেছে। প্রায় ৫০০০ বছর ধরে বাস্তুবিদ্যা কালের বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রামে জয়ী হয়েছে। স্থাপত্য উপবেদ বা স্থাপত্য শাস্ত্রের সূত্রগুল পরবরতিকালে 'বাস্তুশাস্ত্র' শিরোনামে লিপিবদ্ধ হয়েছে। বৈদিক যুগে স্থাপত্য বিজ্ঞান মূলত মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত হত। পরবর্তীতে তা বিস্তার লাভ করে। প্রাচীন যুগে স্থপতিরা কেবল নিছক রাজমিস্ত্রির ভূমিকা পালন করতেন না, নির্মাণশৈলী ও পরিকল্পনার বিষয়টিও তদারক করতে হত তাঁদের। একইভাবে বর্তমানকালে বাস্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। আপনার পরিবারের ক্ষুদ্রতম সদস্যের ঘরটিও সাজিয়ে তুলুন বাস্তুমতে। ঠিক কীভাবে শিশুর বিকাশে ঘর সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছে বাস্তু দেখে নেওয়া যাক। 

আরও পড়ুন- ভাতৃ দ্বিতীয়ার তিথি কোন রাশির উপর কেমন প্রভাব পড়বে দেখে নিন

ছোটদের ঘর সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা মোটেও সহজ কথা নয়। শিশু মন বলে কথা, তাই কখন তাদের কি সে আনন্দ, তা বোধহয় তারা নিজেরাও জানে না। জিনিসপত্র বা খেলনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বা ছুঁড়ে কখন যে কি করে তা বুঝে ওঠা দায়। তবে ছোট থেকেই যদি বাড়ির খুদেটিকে জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা শেখালে বড় হয়ে নিজেরাই গুছিয়ে রাখবে নিজের ঘর। তবে কি ভাবে সাজাবেন বাড়ির ছোট সদস্যটির ঘর। 

ছোটদের ঘর সাজানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ঘরের রং। ছোটদের পছন্দ মত তার ঘরের রং করতে পারেন নীল, গোলাপী, হলুদ, সবুজ। এর উপর তার হাতের তৈরী কোনও কাজ তা কার্ড হোক বা আঁকা ছবি সেগুলি সাজিয়ে দিন ঘর। 

আরও পড়ুন- দীপাবলি উৎসবে চতুর্দশীতে পালিত আরও এক উৎসব, জেনে নিন সেই উৎসব সম্পর্কে

সেই সঙ্গে ঘরে রাখুন পর্যাপ্ত পরিমানে আলোর ব্যবস্থা। শোয়ার জায়গা বেশি উঁচুতে না থাকাই ভালো। বিছানায় পাতুন রঙিন চাদর। তার পছন্দের কোনও কার্টুন চরিত্রেরও সেটি হতে পারে।

ঘরের একদিকে অবশ্যই রাখুন ছোটদের খেলার জিনিসপত্র। সেখানে ওর একটা আলাদা জগৎ তৈরী করে দিন ৷ শিশু মনের বিকাশ ঘটাতে ওকে কিছুটা সময় নিজের মত করে খেলতে দিন। শুধু আড়াল থেকে নজর রাখুন যাতে কোনও বিপদ না হয়। 

বাচ্চার ঘরে অবশ্যই কালারফুল একটি শেলফ রাখুন। আর ওকেই তাতে ওর খেলনাগুলি গুছিয়ে রাখতে দিন। এতে করে ওর গুছিয়ে রাখার অভ্যাসও তৈরি হবে আর ঘর আগোছালো হয়েও থাকবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শিশুদের যত স্নেহ বা আদরে বড় করবেন। শিশুর মানসিক বিকাশও তত ভালো হয়। অতিরিক্ত শাসন, ভয় তাদের মানসিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে।