গণেশ চতুর্থীর দিন সারা দেশ জুড়ে হয়ে থাকে সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা। এই গণেশ চতুর্থী আসলে সিদ্ধিদাতা গণেশের বাৎসরিক পুজা উৎসব। শিব ও পার্বতীর পুত্র গজানন গণেশ- বুদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা। আর সেই কারণেই এই দিনটিতে সকলে গণেশের উপাসনা করে থাকেন।

এই বছর ২ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী। গণেশ পুজোর এই দিনটি বিশেষ মাহাত্ব্যপূর্ণও বটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন এই দিনটিতেই গণেশ তাঁর ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে মর্তে অবতীর্ণ হন। এই দিনটিকেই সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্মদিন বলে মনে করা হয়। সাধারণত এই দিনটি ২০ আগাস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পড়ে। 

এই উৎসব ভারতের সর্বত্রই প্রায় অনুষ্টিত হয়। তার মধ্যেও মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গোয়া, গুজরাট, তামিলনাড়ু -তে বিশেষ ভাবে উদযাপিত হয়। গণপতি বাপ্পাকে উৎস্বর্গ করে দিতে হয় বিশেষ ভোগ। সিদ্ধিদাতার বিশেষ প্রসাদ লাড্ডু না দিলে দেবতা নাকি রুষ্ট হন। এমকি সিদ্ধিদাতার খাবার নিয়ে আছে একটি কাহিনিও। ধনী কুবের একবার গণেশকে আমন্ত্রণ করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন। সময় মত খেতেও আসেন গণেশ। খেতে আসার পরে দেখা যায় যে, সমস্ত খাবার শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর পেট ভরেনি ফলে খুশিও হননি তিনি। কাহিনি থেকে এটাই সবাই মনে করেন শেষ পাতে তার থালায় কিছু না থাকলে তিনি রুষ্ট্র হন। যার জন্য সিদ্ধিদাতা গণেশকে খুশি করতে তার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা করতে হবে বিশেষ ভোগের।

গণেশ বিশেষ পছন্দ করেন মোদক। তাই তাঁকে 'মোদকপ্রিয়' নামেও ডাকা হয়। নারকোল আর গুরের সংমিশ্রণে তৈরি হয় পুর। তারপরে তা ময়দার খোলের মধ্যে ভোরে ভেজে তৈরি হয় এই মোদক। যা গণেশ চতির্থীতে গণেশকে ভোগ হিসাবে দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও মতিচুরের লাড্ডু গণেশের বিশেষ পছন্দের। এমকে তাঁর মুর্তিতেও তাঁর হতে লাড্ডু দেখতে পাওয়া যায়। এই লাড্ডুকে গণেশ পুজোর একটি বিশেষ অংশোও বলা যেতে পারে। লাড্ডু ছড়াও মোয়া গণেশের বেশ পছন্দের তবে মোয়ার মধ্যে মুড়ির মোয়াই তাঁর পছন্দের। তাই তাঁর প্রসাদে অবশ্যই রাখতে হবে মুড়ির এই মোয়া।

  

মনে করা হয় যেকোনও হলুদ রঙের বস্তু গণেশের খুব পছন্দের। এমনকি কলা হলুদ রঙের হওয়ার কারণে তাঁর কলাও বেশ পছন্দের। এছাড়াও তিনি গজানন ও বটে আর সেই কারণে তাঁর কলা এত পছন্দের। তাই গণেশেকে ফলের মধ্যে কলা অবশ্যই দিতে হবে।