শনিদেব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা যতই ভয়-ভীতি মিশ্রিত হোক না কেন, মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় শনিদেবের পূজার্চনা করার বিধান রয়েছে। সাধারনত শনিদেবের মন্দিরে অথবা ঘরের বাইরে খোলা জায়গায় শনিদেবের পুজো হয়। নীল বা কৃষ্ণ বর্ণের ঘট, পুষ্প, বস্ত্র, লৌহ, মাষ কলাই , কালো তিল, দুধ, গঙ্গাজল, সরষের তেল প্রভৃতি বস্তু শনিদেবের ব্রতের জন্য আবশ্যিক। নির্জলা উপবাস বা একাহারে থেকে এই ব্রত পালন করতে হয়। বড় ঠাকুর বা শনিদেবের কৃপা দৃষ্টি সকলেই লাভ করতে চান। যাদের শনির সারে সাতি যোগ চলছে, অথবা শনির গ্রহের যোগ প্রবল তাদের শনিদেবকে তুষ্ট রাখা খুবই জরুরি। তবে ঘরোয়া সাধারণ একটি উপাদান দিয়ে পৌষ মাসে পুজো করলে তাঁর কৃপাদৃষ্টি লাভ করা সম্ভব। 

আরও পড়ুন- আগামী বছরে কেমন হবে বৃষ রাশির কর্মজীবন, জেনে নিন

শনি সনাতন হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা, যিনি সূর্যদেব ও তার পত্নী ছায়াদেবীর পুত্র, এজন্য তাকে ছায়াপুত্র-ও বলা হয়। শনিদেব, মৃত্যু ও ন্যায় বিচারের দেবতা যমদেব বা ধর্মরাজের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে, একদিন শনির ধ্যানের সময়, তার স্ত্রী সুন্দর বেশভূষা নিয়ে তার কাছে এসে কামতৃপ্তি প্রার্থনা করেন। ধ্যানমগ্ন শনি সেদিকে খেয়াল না করাতে অতৃপ্তকাম পত্নী শনিকে অভিশাপ দিলেন, আমার দিকে তুমি ফিরেও চাইলে না ! এরপর থেকে যার দিকে চাইবে, সে-ই ভস্ম হয়ে যাবে! মধ্যযুগীয় গ্রন্থ মতে শনি হলেন একজন দেবতা, যিনি দুর্ভাগ্যের অশুভ বাহক হিসেবে বিবেচিত হন। এই কারনেই  শনির দৃষ্টি অশুভ ফল নিয়ে আসে বলে মনে করা হয়। এই মাসে যে যে নিয়মগুলি মনে রাখলে শনি দোষ কাটাতে পারবেন জেনে নিন।

আরও পড়ুন- কেমন কাটবে বৃহস্পতিবারের সারাদিন, দেখে নিন আজকের রাশিফল

হাত পা ভালো করে ধুয়ে রাতে হাতে একমুঠো কালো সরষে  ও লবন নিয়ে চৌরাস্তার মোড়ে ৭ বার ফেলুন। এতে শনির দৃষ্টি কাটানো যায় সহজেই।

শনির প্রভাবে যদি ব্যবসায় কোনও সমস্যা হয় তাহলে হাতে সামান্য কাঁচা হলুদ ও গোটা সরষের দানা নিয়ে পুরো দোকান ৫ বার ঘুরে কোনও জলাশয়ে ফেলে দিন। এতে আবার ব্যবসায় সফলতা আসবে।

পৌষ মাসের শনিবারে কালো কাপড়ে ৩ চামচ সরষের দানা নিয়ে কাপড় সুদ্ধ পুড়িয়ে দিন। এতে শনির দোষ সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

প্রতি শনিবার একটি পাত্রে গঙ্গাজল ও কালো সরষে একসঙ্গে নিয়ে শিবলিঙ্গে নিবেদন করুন।