বাস্তু মেনে যে কোনও নির্মাণ তৈরি করা না হলে তাতে বাস্তুদোষ থাকে বলে মনে করেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা। বাস্তুশাস্ত্র বিশারদরা সেই সব দোষ কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতিকারের ব্যবস্থা করেন। বাস্তুশাস্ত্র বিশারদদের মতে বাড়িতে বা অফিসে কোনও জিনিস কীভাবে কোথায় রাখা হবে, তার উপর নির্ভর করে শুভ-অশুভ বা ভালো-মন্দ বিষয়। তাই এই বিষয় মাথায় রেখে প্রথমেই সঠিক জমি বাছাই করতে হবে। কারণ জমিতে বাস্তু দোষ থাকলে তার প্রভাব পড়ে নির্মাণের উপর। তাই জমি সঠিক বাস্তু মেনে বাছাই করলে বা কিছু নিয়ম মেনে চললে বাস্তুদোষ কাটানো সম্ভব হয়। তাই বাস্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বাস্তু সব সময় ভালো করে বিচার করে তারপর যে কোনও নির্মাণ তৈরি করলে তবেই জীবন শান্তিময় ও সুখকর হয়।
বাস্তু বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে জানিয়েছেন সব মিলিয়ে বাস্তু ১৬ প্রকারের। তাঁদের মতে, বাস্তুশাস্ত্র এমন এক অঙ্ক যার মাধ্যমে ভালো ও খারাপ শক্তির মধ্যে সমতা রাখা যায়। যে কোনও নির্মাণ তৈরির পাশাপাশি, যেখানে সেটি অবস্থিত তার মাটি পরীক্ষা, সামনের রাস্তা, নির্মাণটির প্রধাণ প্রবেশদ্বার, জলের ব্যবস্থা সবকিছুই বাস্তু শাস্ত্রের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।
যেমন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বসত বাড়ির চারপাশেই রাস্তা থাকা বাস্তুর জন্য ভালো। তা যদি না হয় তিনদিকে রাস্তা থাকাও শুভ। তবে কমপক্ষে দুদিকে রাস্তা থাকলে তা অবশ্যই উত্তর-দক্ষিণ দিকে হওয়া প্রয়োজন। আর যদি জমির একদিকে রাস্তা থাকে তাহলে সেটি উত্তর বা পূর্বদিক হওয়া প্রয়োজন। নাহলে সেই জমির বাস্তুদোষ থাকে। 
সঠিক জমির উত্তর পূর্ব দিক খোলা থাকা উচিত। জমির উত্তর পূর্বদিকে পুকুর বা জলাশয় থাকা ভালো। জমির দক্ষিণ পশ্চিম দিকে উচুঁ গাছ, বড় বাড়ি, পাহাড় বা টিলা থাকাও বাস্তুর জন্য ভালো। আবার চক্রাকার মাপের জমি হলে তা জীবনে দারিদ্রতা নিয়ে আসে। আয়তাকার বাসভূমি সব দিক থেকে ভালো। তাই সঠিক বাস্তুমেনে, জমির মালিকের জন্ম সময় দেখে শুভ সময় দেখেই গৃহ প্রবেশ, সীমানা দেওয়াল ও ভীত পুজো করা প্রয়োজন। যে কোনও নির্মাণ তৈরির আগে যে কোনও বাস্তু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করুন অথবা বাস্তু নিয়ম মেনে নির্মাণ তৈরি করুন।