প্রাচীণকাল থেকেই রাজা-বাদশাদের আমল থেকেই পান পাতায় তম্বূল সেজে আপ্যায়ণ করা হত অতিথিদের। অতিথি আপ্যায়ণের এক প্রধাণ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পান পাতা। শুধু তাই নয় যে কোনও মঙ্গলজনক কাজে এই পাতা না হলে সেই কাজ থাকত অসম্পূর্ণ। পানের কদর সেই সময় থেকে আজও এতটুকুও কমেনি। পুজোপার্বন থকে শুরু করে যে কোনও অনুষ্ঠান বাড়ি আজও বাঙালির রীতি-নীতির পরতে পরতে জায়গা জুড়ে রয়েছে পান পাতা। শাস্ত্র মতে, ব্রহ্মা তুষ্ট সুপারিতে, বিষ্ণু পানে এবং মহাবেদ চুনে। পানের খিলিতেই বাস করেন ত্রীদেব। তাই এই পাতার গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও পড়ুন- পুজোর অপরিহার্য উপাদান বেল পাতা, কেন সব পুজোয় ব্যবহৃত হয় জানুন এর গুরুত্ব

শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, অশ্বমেধ যজ্ঞের সময় পানের জন্য সারা দুনিয়ায় তোলপাড় করে খুঁজেছেন পঞ্চপাণ্ডব। হস্তীনাপুর ছাড়িয়ে নানা দিকে খোঁজ করা হয় পান পাতার। শেষ অবধি এর সন্ধান মেলে পাতালপুরীতে, সাপের ঘরে। তখন বাসুকী তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে উপহার দেন এই গাছের যার ফুল নেই, ফল নেই। কেবল সবুজ পাতা। সংস্কৃতে তাই পানের আর এক নাম 'নাগ বল্লরী'। আবার প্রাচীণ গ্রন্থের উল্লেখ অনুযায়ী, অর্জুন স্বর্গ থেকে লুকিয়ে এনেছিল পানের চারা এনে পুঁতেছিল মর্তে। সেখান থেকেই মর্তে পানের প্রচলন।

 

 

আরও পড়ুন- বুধবার সারাদিন কেমন কাটবে আপনার, দেখে নিন আজকের রাশিফল

মার্কণ্ডেও পুরাণে পান খাওয়ার বর্ণনারও উল্লেখ রয়েছে, পানের অগ্রভাগে পরমায়ু, মূলভাগে যশ এবং মধ্যে লক্ষীর অবস্থান। এই কারনেই এই তিন অংশ ফেলে তারপর পান খাওয়া উচিৎ, না হলেই বিপদ। মূলভাগ খেলে কঠিন রোগ, অগ্রভাগ খেলে হবেন পাপের ভাগী, কমবে আয়ু আর পানের বোটা খেলে নষ্ট হবে বুদ্ধি। পিকও ফেলতে হবে নিয়ম মেনে। পান-সুপারি-মশলায় চিবানোর পর তৈরি প্রথম রস বিষের মতো, দ্বিতীয় রস রেচন  এবং তৃতীয় রসই হল অমৃত। এই কারণেই প্রথম দুবারের রস খাওয়া চলবে না। শুধু পানই নয়, রয়েছে পান মশলা খাওয়ার নিয়মও। সকালের পানে থাকবে বেশি সুপারি, দুপুরের পানে খয়ের এবং রাতে চুন। সুপারি ছাড়া পান খাওয়া মহাপাপ। এই পাপ কাটাতে যেতে হবে গঙ্গাস্নানে করতে হবে পাপল মুক্তিও। এমনকী পরের জন্ম হতে পারে চণ্ডালের ঘরে। তাই এরপর থেকে পান খেলে অবশ্যই মাথায় রাখুন এই জিনিসগুলি।