বৈশাখ মাসের এই একাদশী বৈরুখিনী একাদশী নামেও পরিচিত। বৈশাখ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীতেই  বৈরুখিনী একাদশী পালন করা হয়।  এই দিনে উপবাস পালনের মাধ্যমে মানুষ সকল পাপ থেকে মুক্তি পায় বলে মনে করা হয়। বৈরুখিনী একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা ও উপবাস আশীর্বাদ নিয়ে আসে জীবনে। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর নামে উপবাস থাকা অত্যন্ত পুণ্য লাভ হয়ে বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন- এপ্রিল মাস কেমন প্রভাব ফেলবে মীন রাশির উপর, দেখে নিন

এটি বিশ্বাস করা হয় যে  বৈরুখিনী একাদশীতে উপবাসের মাধ্যমে কুমারীরা দীর্ঘায়ু লাভ করে। অর্থাৎ তাদের বয়স বৃদ্ধি পায়, তাদের জীবন ধারায় কোনও বিরাট সমস্যার সম্মুখীণ হতে হয় না। দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদে থাকা যায়। এই জন্য, ভগবান বিষ্ণু পুজো এবং উপবাস করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে মহালক্ষ্মী  স্বয়ং বৈরুখিনী একাদশীর উপবাস পালন করে ভগবান বিষ্ণুকে সন্তুষ্ট করেছিলেন। তাই এদিনে উপবাস সম্পদ এবং সৌভাগ্য দেয়। এই বছরে  বৈরুখিনী একাদশী উপবাস পালিত হবে ১৮ এপ্রিল শনিবারে।

আরও পড়ুন- বৈশাখ মাসে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি, বাধা কাটিয়ে ফেরান সৌভাগ্য

বৈরুখিনী একাদশীতে সূর্যোদয়ের আগে উঠে স্নান সেরে সূর্য প্রণাম করা উচিৎ । মহামারীর কারণে মন্দির দর্শন এবং তীর্থযাত্রীদের গঙ্গাস্নান এড়ানো উচিত। এই দিনে ঘরেই স্নান সেরে দুই ফোঁটা গঙ্গা জল ছিটিয়ে নিন। তারপরে উপবাস ও ব্রত পালন করা শুরু করুন। এই পবিত্র তিথিতে, মাটির পাত্রটিতে জল দিয়ে পূর্ণ করুন। এতে ওষুধ এবং কিছু মুদ্রা রেখে লাল কাপড় দিয়ে বেঁধে দিন। তারপরে ভগবান বিষ্ণুর পুজো  এবং উপাসনা করুন। পুজো শেষে কলসটি কোনও মন্দিরে দান করুন।

আরও পড়ুন- নতুন বছরে মঙ্গলের যোগ, কোন রাশির ঘরে কেমন প্রভাব থাকবে জেনে নিন

মনে করা হয় বৈরুখিনী একাদশীতে উপবাসকারী সংসার সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। পুরাণ অনুসারে, এই দিনটিতে তিল, শস্য এবং জল দান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুদানগুলি সোনার, রৌপ্য, হাতি এবং ঘোড়ার অনুদানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য ও জল দান করে মানুষ, দেবতা, পূর্বপুরুষরের সকলেই তৃপ্তি পান। ফলে জীবনের যাবতীয় সমস্যা ও বাধা বিপত্তি কেটে যাওয়ার সম্ভানা থাকে।