সোমবার শৈবদের কাছে অতন্ত গুরুত্বপূর্ন এক দিন। এই দিনটিকে মহাদেবের আরাধনার এক বিশেষ দিন হিসেবে মনে করা হয়। সৃষ্টির পূর্বে একমাত্র শিবই বর্তমান ছিলেন। তিনিই লীলাচ্ছলে ব্রহ্মারূপে সৃষ্টি করেন, বিষ্ণুরূপ ধারণ করে পালন করেন আবার রুদ্ররূপ ধারন করে সংহার করেন। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-হর তারই সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের তিনটি রূপভেদ মাত্র। তাই এই তিন রূপের মধ্যে সত্বার কোন পার্থক্য নেই। তবু সনাতন রূপ পরম শিবরূপই মূলস্বরূপ।

আরও পড়ুন- আপনার কি তুলা লগ্ন, তবে আপনার মধ্যে রয়েছে এই বিশেষ গুণ

হিন্দুধর্ম অনুসারে সোমবার হল পরমেশ্বর ভগবান শিবের প্রিয় বার। অধিকাংশ শৈব হিন্দুরা সোমবারে শিব প্রিয় ব্রত পালন করেন। । আবার শিব হলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম এক দেবতা। সনাতন ধর্মের শাস্ত্রসমূহে তিনি পরমসত্ত্বা রূপে ঘোষিত। শিব সৃষ্টি-স্থিতি-লয়রূপ তিন কারনের কারন। তাই মনে করা হয় জীবনের যে কোনও জটিল থেকে জটিলতর সমস্যায় দেবাদিদেব মহাদেব কে স্মরণ করলে সহজেই সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়। এই জন্য প্রতি সোমবার মহাদেব-কে তুষ্ট করতে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। জেনে নেওয়া যাক সেই নিয়মগুলি কী কী- 

আরও পড়ুন- বৈশাখ মাস কেমন প্রভাব ফেলবে মিথুন রাশির উপর, দেখে নিন

শাস্ত্র মতে, কালো তিল দিয়ে স্নান করলে শরীর শুদ্ধ হয়। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্নানের জলে কালো তিল দিয়ে স্নান সারুন।  শিবলিঙ্গ থাকলে তা পুজো করার প্রস্তুতি নিন। শিবলিঙ্গ ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। প্রথমে দুধ দিয়ে স্নান করান।  শিবলিঙ্গে মধু ও ঘি দিয়ে একসঙ্গে আবার ভালো করে শিবলিঙ্গ স্নান করান।  এরপর গঙ্গাজল দিয়ে আবার স্নান করান। নিঁখুত বেলপাতা, ফুল দিয়ে পুজো করুন। অপরাজিতা ফুল অবশ্যই রাখবেন।  ধূপ ধুনো জ্বেলে মহাদেবের পুজো করুন। ওম নমঃ শিবায়ঃ মন্ত্র উচ্চারণ করুন। শিবলিঙ্গের উপর চন্দনের ফোঁটা দিয়ে দিন। বাতাসা ও মনের মত ফল ও মিষ্টি দিয়ে পুজো সেরে ফেলুন। আবশ্যই যে দিন মহাদেবের পুজো করবেন, সেই দিন নিরামিষ খাবেন।  সোমবার এই পদ্ধতিতে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করুন আর কাটিয়ে উঠুন জীবনের জটিল থেকে জটিলতর সমস্যা।