হিন্দুদের রীতিগুলির মধ্যে অন্যতম হল করওয়া চৌথ। স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু বিবাহিত মহিলারা পালন করে থাকেন এই ব্রত। পশ্চিমবঙ্গে করওয়া চৌথ উৎসবটি খুব একটা প্রচলিত না হলেও, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ নিষ্ঠা সহযোগে পালন করে থাকেন বিবাহিত মহিলারা। হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, ও হিমাচল প্রদেশ-এ পালন করা হয় এটি। আমাদের দেশে যেমন স্বামীর মঙ্গলকামনায় শিবরাত্রির চল রয়েছে, তেমনই করওয়া চৌথ। 

আরও পড়ুন- নভেম্বর মাসে জন্ম, তবে আপনার মধ্যে এই রয়েছে এই বিশেষ গুণগুলি

করওয়া চৌথের ব্রত বিবাহিত মহিলাদের জন্য বিশেষ এক রীতি। এই দিনে, বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার জন্য উপবাস করেন। মহিলারা করওয়া চৌথের দিনে হাতে মেহেন্দি পরেন। জ্যোতিষ মতে এই ব্রত কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীতে উদযাপিত হয়। এই দিনে সংক্ষতি চতুর্থীও রয়েছে, যা গণেশকে উত্সর্গ করা হয়। করওয়া চৌথ ব্রত-এ মহিলারা সারা দিন নির্জলা উপবাস থাকেন এবং সন্ধ্যায় চন্দ্র দর্শন শেষে ব্রত ভাঙ্গেন। করওয়া চৌথের উপবাসের বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। করওয়া চৌথের দিনে চাঁদের বিশেষ উপাসনা করা হয়। এই ব্রতর নিয়মাবলী বিশেষ গুরুত্ব হিসাবে বিবেচিত হয়, তাই করওয়া চৌথের উপবাসে নিয়মগুলি অনুসরণ করা উচিত তবেই এই ব্রতর ফল অর্জিত হয়।

আরও পড়ুন- কার্তিক মাস কেমন প্রভাব ফেলবে ধনু রাশির উপর, দেখে নিন

করওয়া চৌথের উপবাসে সরগি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই সরগি হল শ্বাশুড়ির থেকে পাওয়া আশীর্বাদ। ঘরের বউয়ের হাতে শ্বাশুরীরা ছেলের মঙ্গল কামনায় ব্রতী ঘরের বউ-এর হাতে এই উপবাসের উপকরণ তুলে দেন। সকালের ব্রত সরগি করওয়া চৌথের জন্য পালন করা হয়। করওয়া চৌথের উপবাসে সারগি বিশেষ গুরুত্ব হিসাবে বিবেচিত হয়। করওয়া  চৌথের ব্রত চাঁদ দেখার পরেই উপবাস ভঙ্গ করা উচিত। চন্দ্র দর্শন শেষে এই ব্রত স্বামীর হাত থেকে জল নিয়ে যাওয়ার পরেই ভঙ্গ করতে হবে। করওয়া চৌথের উপবাসের সময় মাটির ঘটে পূজা করা হয়। এর বাইরে করওয়া চৌথের ব্রতকথা কথা শোনা উচিত।


করওয়া চৌথ ব্রতর নির্দিষ্ট সময়-

২০২০ সালে করওয়া চৌথ ব্রতের নির্দিষ্ট সময় হল ৪ নভেম্বর বুধবার। এই দিন বিকেল ৫ টা বেজে ৩৪ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬ টা বেজে ৫২ মিনিট পর্যন্ত কারভা চৌথের উপাসনার জন্য শুভ সময়। এই দিন চন্দ্রোদয় হবে সন্ধ্যা ৭ টা বেজে ৫৭ মিনিটে।