শ্রাদ্ধ হিন্দুধর্মের একটি অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত। বিশ্বাস করা হয়, যদি কোনও মৃত ব্যক্তি যথাযথভাবে শ্রাদ্ধ শান্তি করা না হয়, তবে তার আত্মা প্রশান্তি লাভ করে না। যার কারণে তাঁর আত্মা মুক্তি লাভ হতে সক্ষম হয় না। সুতরাং পিতৃগণের মুক্তির জন্য শ্রদ্ধপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে প্রেতকর্ম (শ্রাদ্ধ), তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়, সেই হেতু এই পক্ষ শুভকার্যের জন্য একদমই সঠিক সময় নয়। 

দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী ভাদ্র পূর্ণিমা তিথিতে এই পক্ষ সূচিত হয় এবং সমাপ্ত হয় সর্ব পিতৃ অমাবস্যা, মহালয়া অমাবস্যা বা মহালয়া দিবসে। উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে পিতৃপক্ষ বলা হয়। এই বছর ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শ্রাদ্ধ পক্ষ বা পিতৃপক্ষ। গণেশ উৎসবের পরবর্তী ভাদ্র পূর্ণিমা তিথিতে এই পক্ষ সূচিত হয়। প্রতিপদে এই পৈত্রিক শ্রাদ্ধ শেষ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ শ্রাদ্ধ অর্থাত্ অমাবস্যায় শ্রাদ্ধ পক্ষ শেষ হবে ১৭ সেপ্টেম্বর।

হিন্দু জ্যোতিষ অনুসারে, পিতৃ দোষকে সবচেয়ে জটিল রাশিফলের ​​ত্রুটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণ অনুসারে দেবতাদের সন্তুষ্ট করার আগে একজন ব্যক্তির পিতৃপুরুষদের সন্তুষ্ট করা উচিত। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, যাদের পূর্বপুরুষরা খুশি তাদের জীবনে কোনওরকম বাধার সৃষ্টি হয় না। পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ প্রতি বছর ভাদ্র মাসে শুক্ল পূর্ণিমা থেকে পূর্ব পুরুষদের শান্তির জন্য অশ্বিন কৃষ্ণ অমাবস্যা পর্যন্ত করা হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে পূর্বপুরুষরা এই সময় পৃথিবীতে আছেন, তাই পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ করে তারা তাদের আশীর্বাদ করে।