বাংলায় শারদীয়া দুর্গোৎসবের পর আশ্বিন মাসের শেষে পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আরাধনা করা হয়। তবে এই বছর বাংলা ১৩ কার্তিক ১৪২৭, এবং ইংরেজি ৩০ অক্টোবর ২০২০  শুক্রবার পূর্ণিমার ব্রতোপালন হবে। বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে এ এক চিরন্তন প্রথা। হিন্দু শাস্ত্র মতে, লক্ষ্মী হলেন ধন সম্পত্তির দেবী। ধন সম্পদের আশায় এবং সংসারের মঙ্গল কামনায় ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো হয়ে থাকে। অনেকেই সারা বছর প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর পুজো করে থাকেন। এছাড়া শস্য সম্পদের দেবী বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এবং আশ্বিন পূর্ণিমা ও দীপাবলীতে লক্ষ্মীর পুজো হয়। 

আরও পড়ুন- আগামী বছরের অপেক্ষা, জেনে নিন ২০২১-এর মহালয়া ও দুর্গাপুজোর নির্ঘন্ট

মাটির মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে পালন করা হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। তবে মাটির মূর্তি ছাড়াও আরও নানানভাবে সম্পন্ন হয় এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। মাটির মূর্তি ছাড়াও বেতের ছোট চুপড়ি বা ঝুড়িতে ধান ভর্তি করে তার ওপর দুটি কাঠের লম্বা সিঁদুর কৌটো লালচেলি দিয়ে মুড়ে তা দেওয়া হয় দেবী রূপ হিসেবে। এই ধরনের পুজোকে বলা হত ‘আড়ি লক্ষ্মী’।  কাঠের আসনের উপরে লক্ষ্মীর পা অঙ্কিত আলপনার উপরে রাখা হয় ৯টি চোঙা। এই ৯টি বাকলের মধ্যে দেওয়া হয় পঞ্চশস্য। সর্বশেষে তাতে নারকেল রেখে লাল চেলি দিয়ে ঢেকে বউ সাজিয়ে লক্ষ্মী রূপে পুজো করা হয়। 

ধান, চাল , অন্ন , খাদ্যশস্য হল লক্ষ্মী দেবীর প্রতীক। তাই যারা খাদ্য অপচয় করেন , তাঁদের ওপর দেবী লক্ষ্মী কখনোই তুষ্ট হন না বলে মনে করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ধানক্ষেতের আশেপাশে ইঁদুর বা মূষিকের বাস এবং এরা ধানের ক্ষতি করে থাকে। পেঁচক বা পেঁচার আহার হল এই ইঁদুর। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী গোলাঘরকে লক্ষ্মীর প্রতীক বলা হয়। পশ্চীমবঙ্গ সহ উড়িষ্যা, আসাম সহ বিভিন্ন দেশে এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করা হয়। বাংলা মাসের আশ্বিন মাসের শেষে পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো হয়।

আরও পড়ুন- এই বিষয়গুলি যিনি বুঝেছেন সেই ব্যক্তি জীবনে সফল হবেই, জানায় চাণক্য নীতি

পোড়া মাটির ঘটে চাল বা ধান, যে কোনও শষ্য ভরে তা লক্ষ্মীরূপে কল্পনা করে পুজো করা হয়। অনেকই রীতি মেনে সরার পটচিত্রে লক্ষ্মী পুজো করেন। এই সরাতে লক্ষ্মী, জয়া-বিজয়া সহ কয়েকটি বিশেষ চরিত্র চিত্রায়িত করা হয়। লক্ষ্মী সরাও হয় নানা রকম, যেমন ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি সরা, সুরেশ্বরী সরা এবং শান্তিপুরী সরা। নদিয়া জেলার তাহেরপুর, নবদ্বীপ এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্মীসরা আঁকা হয়। তবে অঞ্চল ভেদে লক্ষ্মী সরায় তিন, পাঁচ, সাতটি করে চরিত্র থাকে।