হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একাদশী তিথি, তা কৃষ্ণপক্ষ বা শুক্লপক্ষেরই হোক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসে কৃষ্ণ এবং শুক্ল পক্ষের একাদশীর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। একাদশীতে নারায়ণের উপাসনা করা হয় এবং উপবাসও পালন করা হয়। একাদশী পালনে শ্রাবণ ও পৌষ মাসের তাত্পর্য সমান বলে বিবেচিত হয়। মনে করা হয় এই একাদশীতে যারা সন্তান সুখ লাভ করতে চায় তাদের জন্য সেরা হিসাবে বিবেচিত। শ্রাবণ মাসের একাদশীকে শ্রাবণ পুত্রদা একাদশী বলা হয়। এটি ৩০ জুলাই রবিবার পালিত হবে।

পুত্রদা একাদশী উপবাস পদ্ধতি-

একাদশী উপবাস দশমী তিথি থেকেই করা হয়। দশমীর দিন উপবাসের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনে উপবাস পালনের সময় ব্রহ্মাচার্য অনুসরণ করা উচিত। একাদশীর দিন সকালে খুব সকালে উঠে স্নান সেরে এবং নারায়ণ বা  গোপালের পুজো করুন। একাদশীর ব্রত কথা পাঠ করুন বা শুনুন। সম্ভব হলে রাত্রি জাগরণ করে ভজন কীর্তন করুন। এরপরে দ্বাদশীতে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুজো পাঠ শুরু করুন। পুজো শেষে দুঃস্থ ও অভাবী বা ব্রাহ্মণকে অন্ন ও সাধ্য মত দান করে দিয়ে ব্রত পালন করুন।

এই একাদশী উপবাসে যুধিষ্ঠিরকে শ্রী কৃষ্ণ বলেছিলেন, যে দাপর যুগে পুরি রাজা মহজিত-এর কোনও সন্তান ছিল না। রাজার শুভাকাঙ্ক্ষীরা মহামুনি লোমশ-এর কাছে পরামর্শের জন্য গেলে জানতে পারেন যে রাজন তাঁর পূর্বের জীবনে বৈশ্য ছিলেন। এই একাদশীর দিনেই বিকেলে একটি জলাধারে কাছে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল তিনি, তখন সেখানে একটি গর্ভবতী গাভী প্রচন্ড গরমে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য জলাশয় থেকে জল পান করার চেষ্টা করছিল। রাজন তাঁর জল পানের চেষ্টা বন্ধ করে নিজে জল পান শুরু করেন। আজ  সেই এক পাপের ফলেই তিনি সন্তান সুখ থেকে বঞ্চিত। মহামুনি বলেছিলেন যে রাজার সমস্ত শুভাকাঙ্ক্ষীরা শ্রাবণ শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে উপবাস করেন এবং তাঁর গুণ যদি রাজাকে দেন তবে অবশ্যই তিনি সন্তান লাভ করবেন। মুনির নির্দেশ অনুসারে প্রজারাও এই তিথিতে রাজার সঙ্গে ব্রত পালন করেছিল, এর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজার পুত্র সন্তান লাভ করেন।