ভগবান বিষ্ণু এবং তার বিভিন্ন অবতারগণ সর্বদা শিব উপাসনাই করতেন। তাই শ্রীকৃষ্ণেরও আরাধ্য ছিলেন পরমেশ্বর শিব। ভগবান শিবের বরেই বিষ্ণু বা কৃষ্ণের ভগবত্বা। তাই হিন্দুধর্মের মূল স্তম্ভ ত্রিশক্তির ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব মধ্যে শিবই প্রধান । তিনি সমসাময়িক হিন্দুধর্মের তিনটি সর্বাধিক প্রাচীন সম্প্রদায়ের অন্যতম শৈব সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা। এছাড়া শিব স্মার্ত সম্প্রদায়ে পূজিত ঈশ্বরের পাঁচটি প্রধান রূপের গণেশ, শিব, সূর্য, বিষ্ণু ও দুর্গা একটি রূপ। তার বিশেষ রুদ্ররূপ ধ্বংস, সংহার ও প্রলয়ের দেবতা। শ্রাবণ মাস মহাদেবের মাস। এই মাসে মহাদেবের আরাধনা করা হয়।

তবে জানলে অবাক হবেন, শ্রাবণ মাসে মহাদেবের আরাধনার পাশাপাশি আর্থিক উন্নতির জন্য দেবী লক্ষ্মীরও পুজো করা হয়। লক্ষ্মী হলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধনসম্পদ, আধ্যাত্মিক সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী। তার অপর নাম মহালক্ষ্মী। লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা। লক্ষ্মী ছয়টি বিশেষ গুণের দেবী। বাঙালি হিন্দুরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মী আরাধনা করে থাকেন। তবে জানলে অবাক হবেন শ্রাবণ মাসের প্রতি সন্ধ্যেবেলা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তাই শ্রাবণ মাসে সংসারের আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পালন করুন কিছু নিয়ম। দেবীলক্ষ্মীর আরাধনা ও তার সঙ্গে মেনে চলতে হবে আরও কিছু নিয়ম। জেনে কোন উপায়ে আপনি মুক্তি পেতে পারেন এই আর্থিক সমস্যা থেকে। তাই আর্থিক উন্নতির জন্য অবশ্যই মেনে চলুন এই পদ্ধতি।

প্রতিদিন সন্ধ্যেবেলায় বজরংবলীর সামনে এক টুকরো ফিটকিরি রেখে দিন। মনের সকল ইচ্ছে জানিয়ে বজরংবলীর আরাধনা করুন। হনুমান চল্লিশা পাঠ করুন। বজরংবলীর উদ্দেশ্যে মিষ্টি বা সাধ্য মত ভোগ দিন। এতেও সংসারের সমস্ত নেগেটিভ শক্তি দূর হয় বাধা বিঘ্ন কেটে যায়। আপনার সমস্ত মনের ইচ্ছে পূরণ হবে। এই মাসে প্রতি সন্ধ্যেবেলায় ধনদেবতা কুবেরের উদ্দেশ্যে উত্তর দিকে মুখ রেখে প্রদীপ জ্বালান। উত্তর দিক হল ধনদেবতা কুবেরের দিক। প্রতিদিন সন্ধ্য়েবেলায় ঘরে এবং বাড়ির আশে-পাশে ধূপ ধুনো দেখিয়ে, প্রদীপ জ্বেলে লক্ষ্মীর ঘট স্থাপন করে, দেবী লক্ষ্মীর পুজো করুন। বৃহস্পতিবার করে পুজো শেষে পাঁচালি পড়বেন। এতে দেবীর কৃপা দৃষ্টি সংসারে বজায় থাকবে আর্থিক সমস্যাও কেটে যাবে।