হিন্দু শাস্ত্র মতে, লক্ষ্মী হলেন ধন সম্পত্তির দেবী। ধন সম্পদের আশায় এবং সংসারের মঙ্গল কামনায় ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো হয়ে থাকে। অনেকেই সারা বছর প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর পুজো করে থাকেন। এছাড়া শস্য সম্পদের দেবী বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এবং আশ্বিন পূর্ণিমা ও দীপাবলীতে লক্ষ্মীর পুজো হয়। লক্ষণীয় বিষয় হল-খারিফ শস্য ও রবি শস্য ঠিক যে সময় হয় ঠিক সেই সময় বাঙালি হিন্দু মেতে ওঠে লক্ষ্মীর আরাধনায়।

আরও পড়ুন- পূর্ণিমা তিথিতে এই নিয়মে সারুন কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো, বাধা কাটিয়ে জীবনে মিলবে সার্বিক উন্নতি

পুরাণ মতে, ক্ষীরদ সমুদ্রে মহানাগের উপরে দেবতা বিষ্ণুর সঙ্গে বিরাজ করেন মহালক্ষ্মী। একই সঙ্গে গৃহস্থের হাতের কাছেই বাস করেন তিনি। সনাতন ধর্ম জানায় পাঁচটি বিশেষ স্থানে লক্ষ্মী বাস করেন। সমাজ-নৃতাত্ত্বিকদের মতে, দেবী লক্ষ্মী আদি মাতৃকাশক্তির প্রতিরূপ। পদ্ম একান্ত ভাবেই স্ত্রী-প্রতীক। তাই দেবীকে পদ্মাসনা হিসেবে কল্পনা করে এসেছে সনাতন ধর্ম।

দেবী লক্ষ্মী কমলাসনা। পদ্মফুলকে দেবীর আবাস বলে চিহ্নিত করে সনাতন বিশ্বাস। তাই তাঁর পুজোয় পদ্ম অপরিহার্য। পদ্মফুল ছাড়াও জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, দেবীর আরেক আবাস হাতের আঙুলের অগ্রভাগে। এর কারণ মানুষের কাজ করার প্রধান অঙ্গ হল হাত-সহ তার আঙ্গুল। 

আরও পড়ুন- পাঁচালী পাঠ ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা, জেনে নিন এর গুরুত্ব

হাতের এই অংশটিই প্রতিটি মানুষের আহারের যোগান দেয়। একইসঙ্গে সনাতন ঐতিহ্য মতে, গজকুম্ভে লক্ষ্মীর বাস বলে মানা হয়। এই গজকুম্ভ হল হাতির কপালে মাঝখানের সামান্য উঁচু অংশ। এই কারণেই অনেক প্রতিকৃতে দেবী লক্ষীর দুপাশে হাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে বেলপাতা বিল্বপত্র যেমন শিবের অচর্ণার প্রধাণ উপকরণ। একইভাবে লক্ষীদেবীর আরেক আলয় হল এই বিল্বপত্রের উল্টো দিক। তিনটি বেলপাতা একটি বিল্পপত্রের সম্পূর্ণ রূপ একই সঙ্গে দেবাদিদেবের ত্রিনয়ন রূপেও কল্পনা করা হয়।