চাণক্যের মতে একজন ব্যক্তি ভাল ও মন্দ তা তাঁর কর্ম দ্বারা বিবেচিত হয়ে। চাণক্যনীতি মতে, যে যে ভাল কাজ করছে সেই ভালো ব্যক্তি হিসেবে সমাজে বিবেচিত হয়েছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সর্বদা ইতিবাচক, তাঁর দ্বারা সম্পাদিত প্রতিটি কাজই মানুষের কল্যাণের জন্য নিহিত। মানব কল্যাণের বোধ নেই এমন কাজের স্থায়ী ফলাফল হয় না। চাণক্যের নীতি অনুযায়ী, কারও ক্ষতি করার জন্য করা কাজ কখনই নিজের জন্য সঠিক হয় না। সুতরাং এই দুষ্ট কাজগুলি এড়ানো উচিত।

মিথ্যা কথা বলে সুবিধা গ্রহণ করার একটি খারাপ কাজ। যারা এটি করেন তাদের কখনই সম্মানের চোখে  সমাজ দেখে না। যদি তিনি প্রভাবশালী হন, তবুও তার পিছনে লোকে এই স্বভাবের জন্য সমালোচনা করেন। একবার মিথ্যা কথা বলে পার পাওয়া যায় তবে প্রতিবার তা হয় না। কারণ একদিন মিথ্যাবাদীর সত্যতা অবশ্যই প্রকাশ্যে চলে আসে। যখন এই ধরনের ব্যক্তির সত্য প্রকাশিত হয়, তখন এই ব্যক্তিরা আসম্মানিত হন। মানুষ এই ধরণের ব্যক্তির থেকে একটি দূরত্ব তৈরি করে।

একে অপরের প্রতি মন্দ কাজ করা উচিত নয়। মন্দ কাজ করা ব্যক্তি সর্বদা তার স্বার্থপরতার কথা চিন্তা করে। এই ধরণের লোকেরা নেতিবাচক শক্তিতে পূর্ণ। এ জাতীয় লোকের মধ্যে মানবতার অনুভূতি থাকে না। অতএব, এই জাতীয় লোকগুলি পাপের ঘোরে নিমগ্ন থাকে। যারা অন্যের প্রতি খারাপ কাজ করে তাদের সমাজে কেউ ভালো চোখে দেখেনা।

অন্যের ক্ষতি করার জন্য অর্থের ব্যবহার করে এমন লোকদের ক্রিয়াকলাপগুলিও অত্যন্ত নিম্নমানের কাজের মধ্যে পড়ে। এ জাতীয় মানুষকে সমাজে সম্মানের সঙ্গে দেখা হয় না। এই জাতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে দূরত্ব রাখতে সবাই পছন্দ করে। অর্থ ভাল কাজের জন্য ব্যবহার করা উচিত। ধনদেবতা দেবী লক্ষ্মী এতে সর্বদা সন্তুষ্ট থাকেন। তবে যারা অর্থ দিয়ে অপরের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাদের জীবনে একদিন দুর্যোগের ঘনঘটা সৃষ্টি হয়।