পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির এক বিশেষ উৎসব। বাংলার পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন হয় পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলাদেশেও। এই দিন বিভিন্ন জায়গায় এই উত্সবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানোর পরে সন্ধ্যায় বাজি বা ফানুস উড়িয়ে উৎসবের সমাপ্তি হয়। এই উত্সব পিঠে-পুলি উত্সব নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন- নতুন বছরে কাটিয়ে উঠুন সমস্ত বাধা, কর্মক্ষেত্রের উন্নতিতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি


 বীরভূমের কেন্দুলী গ্রামে এই দিনটিকে ঘিরে ঐতিহ্যময় জয়দেব মেলা হয়। বাউল গান এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ। মূলত জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি ক্ষণ। 'মকরসংক্রান্তি' শব্দটি দিয়ে নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে বোঝানো হয়ে থাকে। ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী 'সংক্রান্তি' একটি সংস্কৃত শব্দ, এর দ্বারা সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ১২টি রাশি অনুযায়ী এরকম সর্বমোট ১২টি সংক্রান্তি রয়েছে। এবারে ২০২০ সালে ১৫ জানুয়ারি, বুধবার পালিত হবে ঐতিহ্যবাহী এই উত্সব।

আরও পড়ুন- জানুয়ারি মাস কেমন প্রভাব ফেলবে কর্কট রাশির উপর, দেখে নিন


পশ্চিমবঙ্গে ও ওপার বাংলায় মকর সংক্রান্তি বা পৌষ সংক্রান্তি-তে মূলত নতুন ফসলের উৎসব 'পৌষ পার্বণ' উদযাপিত হয়। নতুন ধান, খেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় চালের গুঁড়া, নারিকেল, দুধ আর খেজুরের গুড়। মকরসংক্রান্তি নতুন ফসলের উৎসব ছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতিতে 'উত্তরায়ণের সূচনা' হিসেবে পরিচিত। একে অশুভ সময়ের শেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, পঞ্জিকা মতে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়। এই দিনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত সাগরদ্বীপে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কপিল মুনির আশ্রমকে কেন্দ্র করে পুণ্যস্নান ও বিরাট মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সহস্রাধিক পুণ্যার্থী ও অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগম হয় এই মেলায়।