রাশিচক্রে বুধের অবস্থান খারাপ হলে পান্না ধারণ পরামর্শ দেন জ্যোতিষ। পান্না নবরত্নের অন্যতম একটি রত্ন। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে খাঁটি পান্না ধারণ করতে পারলে ভাগ্য বদলে দিতে পারে। পান্না মধ্যম থেকে গাঢ় সবুজ রঙের সুন্দর রত্ন পাথর। ষড়ভূজাকৃতির কেলাস আকারে এটি পাওয়া যায়। রঙ ও ঔজ্জল্যের ভিড়ে আসল আর নকল রত্ন যাচাই করা খুব সমস্যার ব্যাপার। পান্না সাধারণত কলম্বিয়া এবং ব্রাজিলে পাওয়া যায়। কলম্বিয়া যে পান্না পাওয়া যায় তা সর্বশ্রেষ্ঠ। 

খাঁটি পান্না মনোযোগ বৃদ্ধি, স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি, ইচ্ছা শক্তিকে বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যে কোন ব্যবসায়িক কাজে এই রত্ন মুনাফা বৃদ্ধি এবং সফলতা আসার সম্ভাবনা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, যদি কোনও গর্ভবতী মা এই রত্ন ধারণ করেন তবে তার নিরাপদ এবং স্বাভাবিক সন্তান জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুধু এই নয় এই রত্ন স্বামী-স্ত্রীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকে এবং উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

বেশির ভাগ পান্নাই ঘোলাটে বর্ণের তবে নিখুঁত ও সুন্দর পান্না খুবই দামি। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কলম্বিয়ার মুজো এবং এল সিভর খনিতে। উরাল পর্বতমালার টকোভোয়া-তে আভ্রখনিতেও পাওয়া যায়। অবশ্য সেখানে তা বেরিলিয়ামের আকরিক ক্রিসোবেরিল ও ফেনাকাইটের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। ৷ যে সব পান্নার রং নিমপাতার মতো ও তাতে হলুদ আভা বা ঝলক দেখা যায়, সেই সব পান্না উত্কৃষ্ট মানের হয়। পান্নাকে জলে ফেলে রাখলে জলে সবুজ বর্ণের আলোর ছটা দেখতে পাওয়া যায়।
 
ব্রাজিলীয় পান্না দেখতে কালচে বা ঘোলাটে সবুজ। পান্না ধারণ করার আগে কাঁচা দুধে চব্বিশ ঘন্টা পান্নাকে ডুবিয়ে রেখে বুধবার দিন ধারণ করলেই ফল মিলবে।  সাদা কাপড়ের ওপর পান্না রেখে একটু উঁচুতে তুলে ধরলে সাদা কাপড়ে সবুজ আভা দেখা যায় তবে সে পান্না একেবারে খাঁটি।