কুরুক্ষেত্রে অর্জুনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বলা কথাগুলোই গীতার বাণী বলে মনে করা হয়। এই নীতিগুলিই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাণীতে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম শিখিয়েছিলেন এবং জীবন ও মৃত্যুর চক্র কী তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ঈশ্বরও এই গীতার প্রচারে সৃষ্টির মধ্যে তাঁর মহান রূপ প্রদর্শন করেছিলেন এবং ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনিই এই জগতের সৃষ্টির কর্তা।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা একটি ৭০০-শ্লোকের ধর্মগ্রন্থ। সাতশত শ্লোকের একটি গ্রন্থ বিধার একে সপ্তশতী বলে। এটি প্রাচীন সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত-এর একটি অংশ। যদিও গীতা একটি স্বতন্ত্র ধর্মগ্রন্থ তথা একটি পৃথক উপনিষদের মর্যাদা পেয়ে থাকে। হিন্দুরা গীতা-কে ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী মনে করেন। মানবধর্ম, দর্শন ও সাহিত্যের ইতিহাসে গীতা এক বিশেষ স্থানের অধিকারী গীতা-র কথক কৃষ্ণ হিন্দুদের দৃষ্টিতে ঈশ্বরের অবতার পরমাত্মা স্বয়ং। তাই গীতা-য় তাকে বলা হয়েছে "শ্রীভগবান"।

শ্রীকৃষ্ণ অজুর্নকে বলেছিলেন একজন ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করে নিজ বিশ্বাসের দ্বারা। এর ফলে সেই ব্যক্তি নিজ সম্বন্ধে যা বিশ্বাস করেন তাই হয়। অতএব, নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে কখনও সন্দেহ করবেন না। যা ঘটেছিল তা ভালর জন্যই ঘটেছিল। যা হল তাও ভালোর জন্যই হল। এবং যা ভবিষ্যতে ঘটবে তা ভালোর জন্যই হবে। সব সময় নিষ্ঠা ও শ্রম দিয়ে নিজ দায়িত্ব সম্পাদন কর। তুমি জন্মেছ খালি হাতে, এবং যাবেও খালি হাতে। অতএব, সবার কাছে বিনয়ী হন, যাতে ইতিহাস তোমায় মনে রাখে।